০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব: গৌরীপুরের সিধলং বিলের মাছ হরিলুট

বিল থেকে মাছ ধরে ডাঙ্গায় উঠছেন এক ব্যক্তি। ছবি- ব্রহ্মপুত্রএক্সপ্রেস।

মোঃ মোরসালিন আহমেদ মুসা, শ্যামগঞ্জ :

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের সিধলং বিলের ইজারা নিয়ে সভাপতি ও সহ-সভাপতির মধ্যকার দ্ব›েদ্বর জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাছ ধরার হিরিক পড়েছে। বাংলা ১৪২৯ থেকে ১৪৩১ পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য সিধলা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহ-সভাপতি মোঃ আল-আমিন ৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিলটি সরকারিভাবে ইজারা নেন। সমিতির সভাপতি আবু বক্করও বিলটির ইজারার জন্য আবেদন করেছিলেন, তবে ইজারা পান সহ-সভাপতি আল-আমিন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

ইজারাদার মোঃ আল-আমিন বলেন, ‘আড়াই বছর আগে সরকারিভাবে বিলটির ইজারা নিই। সভাপতি আবু বক্করও বিলটি পেতে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু পাননি। তখন থেকেই আমাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। বিভিন্ন সময় কিছু জেলেকে ব্যবহার করে রাতের আঁধারে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সর্বশেষ ৫ই আগস্ট গণবিপ্লবের পর থেকে বিলটি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। আবু বক্কর তার দলবল নিয়ে মাছ ধরতে শুরু করলে পরে সাধারণ মানুষও ব্যাপকভাবে বিলটি দখল করে ফেলে। আমি বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, সভাপতি আবু বক্কর বলেন, ‘ইজারার পর সমিতির ২১ জন সদস্য মিলে বিলের রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করি। প্রথম বছরের খাজনা বাবদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে আমি নিজে দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই টাকা ফেরত পাইনি, এবং বিলের আয় থেকেও কোনো সদস্য লাভবান হয়নি। সহ-সভাপতি আল-আমিন সব অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বিগত এক থেকে দেড় বছর ধরে সে সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাকে তাড়া করেছে। আমি কয়েকবার থানায় অভিযোগ করেছি এবং সর্বশেষ সেনাবাহিনীর কাছেও অভিযোগ জমা দিয়েছি। আমার উপর বেশ কয়েকবার হামলা হয়েছে, আমি কোনো আক্রমণ করিনি।’

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাকিল আহমেদ জানান, ‘অভিযোগ পেয়ে দুই পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা আবারও দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।’

স্থানীয়রা মনে করছেন, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রাথমিক শিক্ষকদের এখন থেকে বদলি করবে স্থানীয় প্রশাসন

কেন্দুয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুভ উদ্বোধন 

13 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব: গৌরীপুরের সিধলং বিলের মাছ হরিলুট

পোষ্টের সময় : ০৩:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪

মোঃ মোরসালিন আহমেদ মুসা, শ্যামগঞ্জ :

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের সিধলং বিলের ইজারা নিয়ে সভাপতি ও সহ-সভাপতির মধ্যকার দ্ব›েদ্বর জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাছ ধরার হিরিক পড়েছে। বাংলা ১৪২৯ থেকে ১৪৩১ পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য সিধলা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহ-সভাপতি মোঃ আল-আমিন ৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিলটি সরকারিভাবে ইজারা নেন। সমিতির সভাপতি আবু বক্করও বিলটির ইজারার জন্য আবেদন করেছিলেন, তবে ইজারা পান সহ-সভাপতি আল-আমিন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

ইজারাদার মোঃ আল-আমিন বলেন, ‘আড়াই বছর আগে সরকারিভাবে বিলটির ইজারা নিই। সভাপতি আবু বক্করও বিলটি পেতে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু পাননি। তখন থেকেই আমাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। বিভিন্ন সময় কিছু জেলেকে ব্যবহার করে রাতের আঁধারে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সর্বশেষ ৫ই আগস্ট গণবিপ্লবের পর থেকে বিলটি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। আবু বক্কর তার দলবল নিয়ে মাছ ধরতে শুরু করলে পরে সাধারণ মানুষও ব্যাপকভাবে বিলটি দখল করে ফেলে। আমি বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, সভাপতি আবু বক্কর বলেন, ‘ইজারার পর সমিতির ২১ জন সদস্য মিলে বিলের রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করি। প্রথম বছরের খাজনা বাবদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে আমি নিজে দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই টাকা ফেরত পাইনি, এবং বিলের আয় থেকেও কোনো সদস্য লাভবান হয়নি। সহ-সভাপতি আল-আমিন সব অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বিগত এক থেকে দেড় বছর ধরে সে সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাকে তাড়া করেছে। আমি কয়েকবার থানায় অভিযোগ করেছি এবং সর্বশেষ সেনাবাহিনীর কাছেও অভিযোগ জমা দিয়েছি। আমার উপর বেশ কয়েকবার হামলা হয়েছে, আমি কোনো আক্রমণ করিনি।’

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাকিল আহমেদ জানান, ‘অভিযোগ পেয়ে দুই পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা আবারও দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।’

স্থানীয়রা মনে করছেন, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Share this news as a Photo Card