১০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে হত্যা জেরে সন্দেহভাজন আসামিদের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট

 

ময়মনসিংহ নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কৃষক দলের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রানা নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে সন্দেহভাজন আসামিদের বাড়িঘরে হামলা,ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২ জুন বিকেলে সংঘটিত হত্যাকান্ডের পর নিহত রানার পক্ষের সমর্থক পরিচয়ে একদল লোক মফিদুল ইসলাম মাস্টারের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত ১৪টি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি গরু ছাগল,হাঁস-মুরগি,নগদ অর্থ,স্বর্ণালংকার,ধান-চাল,আসবাবপত্র,কৃষি যন্ত্রপাতি ও গৃহস্থালি সামগ্রী লুটপাট করা হয়। কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি,মোফাজ্জল হোসেন,মাহবুল,আসাদ আলী ও রুবেলের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি এ হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত নাসিমা আক্তার বলেন, “হামলাকারীরা আমার ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।” ব্যবসায়ী সোহেলের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন,“আমার স্বামী সোহেল ঈদের পর ব্যবসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা ঘরে রেখেছিলেন। হামলাকারীরা আলমারি ভেঙ্গে সেই টাকা নিয়ে গেছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “আমার একটি ছোট হাঁসের খামার রয়েছে। হামলাকারীরা খামার থেকে ৫০টিরও বেশি হাঁস নিয়ে গেছে।”

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক পরিবার নিরাপত্তার অভাবে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালী মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “শুনেছি আসামি পক্ষের বাড়িঘরে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

অন্যদিকে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নিহত রানার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “কে বা কারা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে, তা আমার জানা নেই।”

 

উল্লেখ্য, গত ২ জুন ময়মনসিংহ নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটবল খেলাকে কেন্দ করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় কৃষক দলের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রানা নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

বকশীগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের বিশেষ মহড়া

14 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে হত্যা জেরে সন্দেহভাজন আসামিদের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট

পোষ্টের সময় : ১০:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

 

ময়মনসিংহ নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কৃষক দলের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রানা নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে সন্দেহভাজন আসামিদের বাড়িঘরে হামলা,ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২ জুন বিকেলে সংঘটিত হত্যাকান্ডের পর নিহত রানার পক্ষের সমর্থক পরিচয়ে একদল লোক মফিদুল ইসলাম মাস্টারের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত ১৪টি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি গরু ছাগল,হাঁস-মুরগি,নগদ অর্থ,স্বর্ণালংকার,ধান-চাল,আসবাবপত্র,কৃষি যন্ত্রপাতি ও গৃহস্থালি সামগ্রী লুটপাট করা হয়। কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি,মোফাজ্জল হোসেন,মাহবুল,আসাদ আলী ও রুবেলের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি এ হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত নাসিমা আক্তার বলেন, “হামলাকারীরা আমার ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।” ব্যবসায়ী সোহেলের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন,“আমার স্বামী সোহেল ঈদের পর ব্যবসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা ঘরে রেখেছিলেন। হামলাকারীরা আলমারি ভেঙ্গে সেই টাকা নিয়ে গেছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “আমার একটি ছোট হাঁসের খামার রয়েছে। হামলাকারীরা খামার থেকে ৫০টিরও বেশি হাঁস নিয়ে গেছে।”

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক পরিবার নিরাপত্তার অভাবে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালী মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “শুনেছি আসামি পক্ষের বাড়িঘরে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

অন্যদিকে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নিহত রানার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “কে বা কারা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে, তা আমার জানা নেই।”

 

উল্লেখ্য, গত ২ জুন ময়মনসিংহ নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটবল খেলাকে কেন্দ করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় কৃষক দলের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রানা নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

Share this news as a Photo Card