আমাদের আশেপাশেই কিছু মানুষ দেখা যায়, যারা খুবই চুপ প্রকৃতির। অনেকটা ইন্ট্রোভার্ট টাইপের। তবে একটা সমস্যা হলো এইধরনের মানুষ কিছু সেল্ফ ইসটিম বা আত্মবিশ্বাস-এর অভাবে ভোগে। এরফলে দ্রুতই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়।
বিজ্ঞানের পরিভাষায় একজন ব্যক্তি যখন অন্যের কথায় অতিদ্রুত প্রভাবিত হন এবং পরিণতির কথা চিন্তা না করেই কাজ করে ফেলেন, তখন একে একক কোনো রোগ বলা হয় না। বরং একে কয়েকটি মনস্তাত্ত্বিক ও নিউরোলজিক্যাল বিষয়ের সংমিশ্রণ হিসেবে দেখা হয়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সাজেস্টেবিলি পার্সোনালিটি’।
এদের মস্তিষ্কের গঠন এমন হয় যে, তারা অন্যের দেওয়া তথ্যকে নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে ফিল্টার করতে পারে না। আর যদি বিচার বুদ্ধি দিয়ে ফিল্টার করেও, কিন্তু শেষে সেই ‘যে লাও সেই কদু’ই থেকে যায়। আর এই হাই সাজেস্টিবিলিটি হওয়ার একটা কারণ হলো ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর অভাব- এদের মস্তিষ্কের যে অংশটি (Prefrontal Cortex) যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি অন্যের কথা শোনার সময় কিছুটা শিথিল হয়ে পড়ে। ফলে তারা তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই প্রতিক্রিয়া দেখায়।
আরেকটি কারণ হলো Self Esteem বা আত্মবিশ্বাস-এর অভাব: যাদের আত্মবিশ্বাস কম, তারা মনে করেন নিজের চেয়ে অন্যের সিদ্ধান্ত বেশি সঠিক। এই সকল কারণে হাই সাজেস্টিবিলিটি তৈরি হয়। তবে দ্বিতীয় কারণটা বেশি প্রভাব ফেলে।
এখন যদি কেউ এমন সমস্যার মধ্যে পড়েন তাহলে করণীয় কি? এক্ষেত্রে প্রথমত, ক্রিটিক্যাল থিংকিং কিছুটা বাড়াতে হবে। তবে অধিক বৃদ্ধি নয়। কারণ অধিক বৃদ্ধি হলে হিতে বিপরীত হবে। সবকিছুতে ক্রিটিক্যাল থিংকিং ঠিক না। আর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে নিজের ছোটো ছোটো অর্জনের তালিকা তৈরি করুন। এছাড়া নিজের নেওয়া আগের সঠিক সিদ্ধান্তগুলো মনে করুন। এটি আপনাকে বিশ্বাস করতে সাহায্য করবে যে, আপনি নিজেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। মনের এই অদৃশ্য ফাঁদ থেকে বের হতে হলে এই কৌশলগুলো অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায়, এই ফাঁদ থেকে রেহাই না পেয়ে একসময় বড় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
লেখকঃ শাকিল বাবু (সাংবাদিক)

শাকিল বাবু 


























