১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫৩ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠাল নাসা

 

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর আবারও পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছাড়িয়ে গভীর মহাকাশে মানুষের পদযাত্রার নতুন এক অধ্যায় সূচিত হয়েছে।

 

বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে চারজন নভোচারীকে নিয়ে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে নাসার ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ চন্দ্রাভিযান।

 

৩২ তলা বিশিষ্ট বিশাল এই রকেটটি কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যখন মহাকাশের পানে যাত্রা শুরু করে, তখন কয়েক হাজার মানুষ এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে সেখানে সমবেত হন। এই মিশনটি মূলত চাঁদে স্থায়ীভাবে মানুষের বসতি স্থাপন এবং পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহে মহাকাশচারী পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

আর্টেমিস ২ মিশনের চার সদস্যের মধ্যে রয়েছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এই সফরে তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। উড্ডয়নের মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় মিশনের কমান্ডার ওয়াইজম্যান ক্যাপসুল থেকে আপ্লুত কণ্ঠে জানান, তারা একটি অপূর্ব চন্দ্রোদয় দেখতে পাচ্ছেন এবং সরাসরি চাঁদের অভিমুখেই এগিয়ে যাচ্ছেন।

 

উৎক্ষেপণের আগে হাইড্রোজেনের বিপজ্জনক লিকেজ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও নাসা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ৭ লক্ষ গ্যালন জ্বালানি লোড করে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি ছাড়াই মিশনটি শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। ল্যাঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই মিশনে পুরো আর্টেমিস টিমের সাহস এবং নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে।

 

 

যাত্রার পরবর্তী ধাপে নভোচারীরা প্রথম এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, প্রপালশন, নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করবেন। এই পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ওরিয়ন মহাকাশযানটি একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে সরাসরি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে।

 

পুরো যাত্রাপথে ওরিয়ন চাঁদকে ঘিরে একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করবে, যেখানে চাঁদ ও পৃথিবীর অভিকর্ষ বলকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম জ্বালানি ব্যয়ে মহাকাশযানটি পুনরায় পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে। এই পর্যায়ের একটি সময়ে মহাকাশচারীরা গত কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করবেন।

 

চাঁদকে প্রদক্ষিণ শেষে পৃথিবীতে ফেরার সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রায় ৪০,২৩৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। নাসার বিজ্ঞান মিশন প্রধান নিকি ফক্সের মতে, বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অ্যাপোলো মিশনের সময় জন্মায়নি, তাই আর্টেমিসই হতে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের ‘অ্যাপোলো’।

 

মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি আশা করছে যে, ২০২৬ সালের এই সফল মিশন আগামীতে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষের পা রাখার পথকে সুগম করবে। এই মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ ৫০ বছর পর মহাকাশ জয়ের নতুন এক উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে।

 

সূত্র: আল জাজিরা

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

বকশীগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের বিশেষ মহড়া

14 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

৫৩ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠাল নাসা

পোষ্টের সময় : ০৯:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

 

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর আবারও পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছাড়িয়ে গভীর মহাকাশে মানুষের পদযাত্রার নতুন এক অধ্যায় সূচিত হয়েছে।

 

বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে চারজন নভোচারীকে নিয়ে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে নাসার ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ চন্দ্রাভিযান।

 

৩২ তলা বিশিষ্ট বিশাল এই রকেটটি কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যখন মহাকাশের পানে যাত্রা শুরু করে, তখন কয়েক হাজার মানুষ এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে সেখানে সমবেত হন। এই মিশনটি মূলত চাঁদে স্থায়ীভাবে মানুষের বসতি স্থাপন এবং পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহে মহাকাশচারী পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

আর্টেমিস ২ মিশনের চার সদস্যের মধ্যে রয়েছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এই সফরে তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। উড্ডয়নের মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় মিশনের কমান্ডার ওয়াইজম্যান ক্যাপসুল থেকে আপ্লুত কণ্ঠে জানান, তারা একটি অপূর্ব চন্দ্রোদয় দেখতে পাচ্ছেন এবং সরাসরি চাঁদের অভিমুখেই এগিয়ে যাচ্ছেন।

 

উৎক্ষেপণের আগে হাইড্রোজেনের বিপজ্জনক লিকেজ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও নাসা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ৭ লক্ষ গ্যালন জ্বালানি লোড করে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি ছাড়াই মিশনটি শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। ল্যাঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই মিশনে পুরো আর্টেমিস টিমের সাহস এবং নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে।

 

 

যাত্রার পরবর্তী ধাপে নভোচারীরা প্রথম এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, প্রপালশন, নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করবেন। এই পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ওরিয়ন মহাকাশযানটি একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে সরাসরি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে।

 

পুরো যাত্রাপথে ওরিয়ন চাঁদকে ঘিরে একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করবে, যেখানে চাঁদ ও পৃথিবীর অভিকর্ষ বলকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম জ্বালানি ব্যয়ে মহাকাশযানটি পুনরায় পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে। এই পর্যায়ের একটি সময়ে মহাকাশচারীরা গত কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করবেন।

 

চাঁদকে প্রদক্ষিণ শেষে পৃথিবীতে ফেরার সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রায় ৪০,২৩৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। নাসার বিজ্ঞান মিশন প্রধান নিকি ফক্সের মতে, বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অ্যাপোলো মিশনের সময় জন্মায়নি, তাই আর্টেমিসই হতে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের ‘অ্যাপোলো’।

 

মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি আশা করছে যে, ২০২৬ সালের এই সফল মিশন আগামীতে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষের পা রাখার পথকে সুগম করবে। এই মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ ৫০ বছর পর মহাকাশ জয়ের নতুন এক উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে।

 

সূত্র: আল জাজিরা

 

Share this news as a Photo Card