ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৬০ হাজার টাকার জাল নোটসহ সংঘবদ্ধ চক্রের দুই নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৭ মে) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে নগরীর শম্ভুগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (৮ মে) বিকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার গলকুন্ডা এলাকার মো. জাফর আলী (সিদ্দিক) এর মেয়ে পারুল বেগম (২৮) এবং নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত সিদ্দিক আলীর মেয়ে রুবি আক্তার (২৫)। বর্তমানে তারা ময়মনসিংহ নগরীতে ভাসমানভাবে বসবাস করছিলেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এর দিকনির্দেশনায় ডিবির একটি বিশেষ টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল টাকা তৈরি ও বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বাজারে ছাড়ার উদ্দেশ্যে তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জাল নোট সংগ্রহ করেছিল।
ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত রুবি আক্তারের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে আগে দুটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়। জাল নোট চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশের এ সফল অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা ডিবি (দক্ষিণ) ওসি মো. মাহবুবুল হক বলেন, জাল টাকাসহ দুই নারীকে ধরা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা শেষে আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়। চক্রটিতে আরও কারা জড়িত আছে, তারা কোথায়, কিভাবে টাকা তৈরি করে সে সব বিষয় উদ্ঘাটনে আমাদের কাজ চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জাল নোট শনাক্তকরণ এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অতি সম্প্রতি জাল নোট তৈরি চক্রের দুজন নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত জাল নোটসমূহ প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাল নোট কেবল আর্থিক অপরাধ নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এ কারণে জাল নোট চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি, বিশেষ অভিযান এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাল নোট শনাক্তকরণে ব্যাংক, ব্যবসায়ী, গণপরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সন্দেহজনক নোট লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা পুলিশকে অবহিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















