নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণে ১১ মাসের অন্তসত্তা শিশুর অন্তসত্তা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা নারী চিকিৎসক সায়মা আক্তারকে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে।
ডা. সায়মা আক্তার গাইনি বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখতেন
শুক্রবার (৮ মে) বিকাল ৫ টায় মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম সাধারণ ডায়েরী করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ডা. সায়মা আক্তার।
সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করেন, ৩০ এপ্রিল এক কিশোরী শারীরিক জটিলতা নিয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন, মেয়েটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ওই নারী চিকিৎসকের কাছে জানতে চান। পরে তিনি বিভিন্ন মিডিয়ায় বক্তব্য দিলে তা প্রচার হয়। এরপর থেকে তাকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গালিগালাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যা ও গণধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
হুমকি দেয়ার ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন বলে উল্লেখ করে ডা. সায়মা।
মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই নারী চিকিৎসক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তার নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা কাজ করছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
সুত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব-১৪র একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার পর ওই শিক্ষক গাজীপুর, টঙ্গী ও পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে, আসামি ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য দেননি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষককে নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তুলা হলে বিচারক মোসসিনা ইসলাম মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিনদিন রিমান্ডের আদেশ দেন। আগামী ১০ মে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গ্রেপ্তার আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা। সে তার নানির সঙ্গে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ এবং মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
স্টাফ রিপোর্টার 




















