বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, কৃষির উপরই মূলতঃ বাংলাদেশের অর্থনীতি নির্ভরশীল। আমাদের দেশের বেশি ভাগ লোক গ্রামে বসবাস করে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কৃষির উপর নির্ভাশীল মন্তব্য করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো:আব্দুর রহিম বলেন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কৃষকদের কৃষি কার্ড বিতরণ,দেশ ব্যাপী বৃক্ষ রোপন খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
বর্তমান গনতান্ত্রিক সরকার দেশের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য টাঙ্গাইল থেকে কৃষি কার্ড চালু করেছে। সামনে আরো ১৫টি উপজেলার প্রতিটি ব্লকে কৃষি কার্ড বিতরন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় কৃষি কার্ড চালু হবে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আয়োজনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে শুক্রবার প্রকল্পের মুল্যায়ন ও পর্যালোচনা শীর্ষক এবং সফল কৃষকের মাঝে পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ আঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সালমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মো:আব্দুস সাত্তার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
কর্মশালায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোস্তফা কামাল স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্পের কার্যক্রম ও সফলতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মো:আব্দুর রহিম বলেনশস্যের নিবিড়বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রান্তিকীকরণের হার হ্রাস করা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র মুক্ত করার জন্য সীমিত ভূমি সম্পদের অধিক কার্যকরী ব্যবহার মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৃষকের স্বার্থ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষি খাতে যে কোনো ধরনের নীতি ও প্রকল্প নির্ধারণে কৃষকের কল্যাণ নিশ্চিত করা প্রথম লক্ষ্য হবে।
বর্তমান সরকার কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ সম্প্রসারণ এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি—এসব উদ্যোগই দেশের টেকসই কৃষি অর্থনীতি গড়ে তোলার মূল ভিত্তি।
দেশের কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দেশে প্রতি বছর কত জনসংখ্যা বাড়ছে সেটি হিসাব করে আমরা সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে চাই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো: আব্দুর রহিম আরো বলেন মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি পশু বা বন্যপ্রাণীর খাদ্যের দিকেও নজর দিতে হবে।উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান-সবজি চাষ, লাগসই প্রযুক্তি, মাটির সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের এক ফসলী জমিকে দুই ফসলীতে, দুই ফসলী জমিকে তিন ফসলীতে এবং তিন ফসলী জমিসহ অন্যান্য জমিকে তিনের অধিক ফসলী জমিতে রুপান্তর করে প্রকল্প এলাকায় শস্যের গড় নিবিড়িতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং টেকসই কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে অগ্রণী ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রকল্প ভুক্ত ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের ৬টি জেলার ৬০ টি উপজেলা থেকে সফল কৃষি অফিসার,উপসহকারী কৃষি অফিসার,কৃষক ও কৃষাণীর মাঝে অতিথিরা পুরস্কার তোলে দিয়েছেন।
কর্মশালায় ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর,নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ এবং ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার ৬০টি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা,সফল কৃষক,বিনা,বারি,ধান গবেষেনা ইনস্টিটিউট, কৃষি বিজ্ঞানী কৃষি গবেষক, কৃষি উদ্যোক্তা,প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার 





















