দুই দশক পর আজ ২৩ মে কবির বাল্যস্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে ঘিরে সর্বত্রই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি পূরণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ময়মনসিংহবাসী।
১৯১৪ সালে দারোগা রফিজ উল্লাহর হাত ধরে আসানসোলের একটি রুটির দোকান থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজির শিমলা গ্রামে আসেন কিশোর নজরুল ইসলাম। সেখানে একটি বৈঠকখানায় বসবাস করতেন তিনি। পাশের পুকুরে গোসল করতেন দূরন্ত নজরুল। ছুটে বেড়াতেন এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে।
পরে কবি নজরুলকে সপ্তম শ্রেণিতে দরিরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে হেঁটে গিয়ে ক্লাস করতেন তিনি। বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁকে নামাপাড়া বিচুতিয়া বেপারি বাড়িতে লজিংয়ে পাঠানো হয়। সেখানে থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় অভিমান করে কাউকে না জানিয়ে কুমিল্লায় চলে যান নজরুল। পরে আর কোনো দিন ত্রিশালে আসেননি তিনি।
নজরুলের স্মৃতি রক্ষার্থে কাজির শিমলা দারোগা বাড়ি এবং বিচুতিয়া বেপারি বাড়িতে নির্মাণ করা হয় নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র। তবে স্মৃতি কেন্দ্র দুটিতে জনবল সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নানা সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে এসব কেন্দ্র আধুনিকায়নের পাশাপাশি চলাচলের ভাঙাচোরা সড়কটি মেরামতের দাবি স্থানীয়দের।
রফিজ উল্লাহ দারোগার নাতি কাজী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ১৯১৪ সালের জুন মাসে তাঁর দাদা নজরুলকে গ্রামে নিয়ে এসেছিলেন। নজরুলের মেধা দেখে সবাইকে তাঁর প্রতি যত্ন নিতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নজরুল ছিলেন দূরন্ত প্রকৃতির। বর্ষাকালে এখান থেকে স্কুলে যেতে তাঁর কষ্ট হতো। তাই প্রায় দেড় বছর এখানে থাকার পর তাঁকে নামাপাড়া লজিংয়ে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, আজ রফিজ উল্লাহ দারোগার কারণেই নজরুল পরিচিতি পেয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এখানে তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে দুইতলা একটি স্মৃতি কেন্দ্র গড়ে তোলা হলেও সেটি অনেকটা অবহেলায় রয়েছে। দেখার মতো রয়েছে নজরুলের শোবার খাট, কয়েকটি ছবি ও বই। এখানে আসার সড়কটিও ভাঙাচোরা। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আসছেন, আমাদের দাবি থাকবে স্মৃতি কেন্দ্রটি আধুনিকায়নের পাশাপাশি সড়কটি মেরামতের।
নজরুল স্মৃতি কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. ফয়জুল্লাহ রোমেল বলেন, বিচুতিয়া বেপারির বাড়ির কেন্দ্র থেকেই দুটি স্মৃতি কেন্দ্র পরিচালিত হয়ে থাকে। দুই কেন্দ্রেই শিশুদের জন্য নজরুলসংগীত প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও দুই স্মৃতি কেন্দ্রে নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
শুকতারা সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী রবিন বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী জাতীয় পর্যায়ে ত্রিশালে হওয়ায় আমরা গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী আসবেন, এতে আমরা আরও উচ্ছ্বসিত। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাবা-মা ত্রিশালে এসেছিলেন। তাঁরা আসলেই ত্রিশালবাসীর স্বপ্ন পূরণ হয়। এবারও প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বপ্ন পূরণ করবেন বলে আশা রাখছি। আমাদের প্রধান দাবি বিমানবন্দর ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, কবি নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দরিরামপুর স্কুল মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা, নজরুল মেলা, বইমেলা, নাচ, গান, আবৃত্তি ও পালাগান। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
২৩ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় ত্রিশালে পা রেখেই ১৯৭৯ সালে বাবা জিয়াউর রহমানের খনন করা দরিয়ার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—জানিয়ে ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের পর সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নজরুল একাডেমি ডাকবাংলোয় বিশ্রাম নিয়ে সাড়ে ৪টার দিকে নজরুল জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে অডিটোরিয়ামে জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। অনুষ্ঠান সফল করতে বেশ কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর আগমন বড় সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালবাসীর জন্য বড় কিছু উপহার দিয়ে যাবেন। সেটিতে চমক থাকবে, তাই এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
স্টাফ রিপোর্টার 




















