০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরিষাবাড়ীতে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু, স্থায়ী সেতু চান ১০ গ্রামের মানুষ

 

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভাঙাচোরা ও ঝুকিপূর্ণ কাঠের ব্রীজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ২ উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষ। পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর টাকুরিয়া জিয়া খালের’ ওপর ২৫ বছর আগে নির্মিত পুরাতন পিলারের ওপর নির্মিত কাঠের ব্রিজটি বর্তমানে সংস্কার না করার কারনে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে কাঠের ব্রীজটি। ফলে চরম আতঙ্ক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা। তৈরি পিলারের উপর স্থায়ী ভাবে ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানান স্থানীয়রা।

 

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের টাকুরিয়া এলাকায়, জিয়া খালের ওপর ২০০১ সালের পর বিএনপির শাসনামলে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে পিলার স্থাপনের পরপরই ব্রিজ নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার টাকুরিয়া, মালিপাড়া, ব্রাহ্মনজানী, মানিক পটল, বিন্নাফৈর, চর সরিষাবাড়ী এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর, শালগ্রাম, মাজনাবাড়ীসহ ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

 

বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে খালটি পার হলেও বর্ষায় দুর্ভোগ বেড়ে যেতো তাদের। তখন নৌকা আর বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা ছিল। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে ওই এলাকার মানুষজনকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হতো। পরে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষথেকে ওই সব পিলারের ওপর লোহা ও কাঠ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়া হয়। তবে কাঠের ব্রীজ নির্মাণের দীর্ঘদিন পার হলেও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে ব্রীজটি।

 

টাকুরিয়া গ্রামের আব্দুল হাই গেদা, সালাম মিয়া ও বাদল হোসেন সহ একাধিক কৃষক জানান, শুরুতে ব্রিজটি আমাদের আশার আলো হলেও পরবর্তীতে তা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। তবে পিলার নির্মাণের দীর্ঘ ২৫ বছর পার হলেও এখানে পূনার্ঙ্গ ব্রীজ হয়নি। আমাদের দুঃখ দূর হবে না।

 

স্থানীয় সমাজ সেবক বাবুল সরকার বলেন, আমাদের চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস হচ্ছে কৃষি কাজ। আমাদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফসলের ভালো ফলন হলেও এই খালের ওপর শক্তপোক্ত ব্রিজ না থাকায় কৃষকেরা কৃষি পণ্য বাজারে নিয়ে নায্য দামে বিক্রি করতে পারছে না।বিভিন্ন স্কুল মাদরাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচোরা ব্রীজ ও খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে পারাপার হতে হয়। আমাদের এমপি শামিম তালুকদারের কাছে এলাকাবাসীর দাবী জিয়া খালের উপর যেন একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ ও ব্রীজের সংযোগ সড়কটি মেরামত করে দেয়া হয়।

 

এ বিষয়ে পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক আলী বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। স্থানীয়দের যাতায়াতের দূর্ভোগ কমাতে পরিষদের মাধ্যমে ব্রীজটির লোহার এ্যাঙ্গেল ও কাঠ পরিবর্তন করে সংস্কার করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এমপির সাথে কথা বলে এখানে যাতে স্থায়ী একটা ব্রীজ হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিএনপি বদ্ধপরিকর: প্রিন্স

৩৪ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে বিপাকে, হালুয়াঘাটে সাজাপ্রাপ্ত নারী গ্রেফতার

07 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সরিষাবাড়ীতে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু, স্থায়ী সেতু চান ১০ গ্রামের মানুষ

পোষ্টের সময় : ১০:১০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

 

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভাঙাচোরা ও ঝুকিপূর্ণ কাঠের ব্রীজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ২ উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষ। পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর টাকুরিয়া জিয়া খালের’ ওপর ২৫ বছর আগে নির্মিত পুরাতন পিলারের ওপর নির্মিত কাঠের ব্রিজটি বর্তমানে সংস্কার না করার কারনে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে কাঠের ব্রীজটি। ফলে চরম আতঙ্ক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা। তৈরি পিলারের উপর স্থায়ী ভাবে ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানান স্থানীয়রা।

 

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের টাকুরিয়া এলাকায়, জিয়া খালের ওপর ২০০১ সালের পর বিএনপির শাসনামলে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে পিলার স্থাপনের পরপরই ব্রিজ নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার টাকুরিয়া, মালিপাড়া, ব্রাহ্মনজানী, মানিক পটল, বিন্নাফৈর, চর সরিষাবাড়ী এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর, শালগ্রাম, মাজনাবাড়ীসহ ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

 

বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে খালটি পার হলেও বর্ষায় দুর্ভোগ বেড়ে যেতো তাদের। তখন নৌকা আর বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা ছিল। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে ওই এলাকার মানুষজনকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হতো। পরে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষথেকে ওই সব পিলারের ওপর লোহা ও কাঠ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়া হয়। তবে কাঠের ব্রীজ নির্মাণের দীর্ঘদিন পার হলেও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে ব্রীজটি।

 

টাকুরিয়া গ্রামের আব্দুল হাই গেদা, সালাম মিয়া ও বাদল হোসেন সহ একাধিক কৃষক জানান, শুরুতে ব্রিজটি আমাদের আশার আলো হলেও পরবর্তীতে তা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। তবে পিলার নির্মাণের দীর্ঘ ২৫ বছর পার হলেও এখানে পূনার্ঙ্গ ব্রীজ হয়নি। আমাদের দুঃখ দূর হবে না।

 

স্থানীয় সমাজ সেবক বাবুল সরকার বলেন, আমাদের চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস হচ্ছে কৃষি কাজ। আমাদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফসলের ভালো ফলন হলেও এই খালের ওপর শক্তপোক্ত ব্রিজ না থাকায় কৃষকেরা কৃষি পণ্য বাজারে নিয়ে নায্য দামে বিক্রি করতে পারছে না।বিভিন্ন স্কুল মাদরাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচোরা ব্রীজ ও খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে পারাপার হতে হয়। আমাদের এমপি শামিম তালুকদারের কাছে এলাকাবাসীর দাবী জিয়া খালের উপর যেন একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ ও ব্রীজের সংযোগ সড়কটি মেরামত করে দেয়া হয়।

 

এ বিষয়ে পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক আলী বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। স্থানীয়দের যাতায়াতের দূর্ভোগ কমাতে পরিষদের মাধ্যমে ব্রীজটির লোহার এ্যাঙ্গেল ও কাঠ পরিবর্তন করে সংস্কার করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এমপির সাথে কথা বলে এখানে যাতে স্থায়ী একটা ব্রীজ হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card