বিরোধীদের আন্দোলনকে অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ব্যার্থ আয়োজন উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রশ্ন রাখেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের নাশকতায় বিরোধী দলের কেনো নিরবতা?
বুধবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ২ নম্বর জুগলী ইউনিয়নের ছাতুগাঁও বাজারে জুগলী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিশেষ যৌথ সভায় বক্তব্যকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, বিরোধী দলের অপপ্রচার এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সরকারের ভুল কাজের সমালোচনা করার অধিকার অবশ্যই বিরোধী দলের রয়েছে। কিন্তু সাত মাস বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচিতে যে ভাষায় বিভ্রান্তি ও উস্কানিমূলক অপপ্রচার করা হচ্ছে, তাকে সুস্থ রাজনৈতিক কর্মসূচি বলা যায় না, বরং এসব অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আয়োজন। বিরোধীদের এই আয়োজন ব্যার্থ হয়ে বাধ্য।
তিনি বলেন, গণ অভ্যুত্থানের পর জনগণ গতানুগতিক ধারার রাজনীতির পরিবর্তে গঠনমূলক রাজনীতি দেখতে চায়।
তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদেরকে জঙ্গি হিসেবে পরিচিত করেছে। ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নিষিদ্ধ ও গুপ্তদের
অপ তৎপরতা এবং আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নীরবতা জাতিকে নতুন বার্তা দিচ্ছে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় এদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থেকে এবং পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এখন থেকেই নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত হতে হবে। তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে একক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলেও অধিকতর জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য, সৎ ও নির্ভরযোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দিতে হবে। এই সমর্থনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের মধ্যে কোনো বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না। বৃহত্তর স্বার্থে দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে নিতে হবে। দলের সিদ্ধান্তই হবে সবার সিদ্ধান্ত। দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দল কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।
নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর আচরণে দলের ভাবমূর্তি প্রতিফলিত হয়। তাই কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, ব্যক্তিস্বার্থ বা পরস্পরবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক ঐক্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা যাবে না। তিনি বলেন, অপরাধীর কোনো দল নাই। দলীয় পরিচয়ে অপরাধ ও অনৈতিক কাজে জড়ালে তার কোনো ছাড় নাই।
তিনি আরও বলেন, শুধু নির্বাচন এলেই জনগণের কাছে গেলে হবে না; সারা বছর জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে হবে। মানুষের সমস্যা শুনে তা প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরে সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
জুগলী ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। কোন রাস্তা সংস্কার প্রয়োজন, কোথায় সেতু বা কালভার্ট দরকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কী সমস্যা রয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের কোথায় কী ঘাটতি রয়েছে—এসব চিহ্নিত করে জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন বিএনপির বিশেষ যৌথ সভায় হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আমজাদ আলী, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ক্বারী আবুল কাশেম, শাজাহান মাহমুদ, আকিকুল ইসলাম, মুক্তাদির আহসান, আল আমিন চমক, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।
স্টাফ রিপোর্টার 





















