সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতির অভিযোগের পর ফ্লাইটটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করা হয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানে থাকা সব যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ জর্ডানের আকাশসীমায় থাকার সময় হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের দিকে যায়।
উড়োজাহাজটি থেকে প্রথমে একটি সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। কয়েক মিনিট পর আরেকটি জরুরি সংকেত আসে, যেখানে বিমানে সম্ভাব্য ‘বেআইনি হস্তক্ষেপের’ ইঙ্গিত ছিল। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি অবতরণের আগে আবারও সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠায়। পরে সেটি উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই পাইলট নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার পর উড়োজাহাজটি থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। তবে পাইলটদের কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ওই সংকেত পাঠিয়েছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে বিমান ছিনতাই হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
ফ্লাইদুবাইয়ের এক মুখপাত্র জানান, তেল আবিব যাওয়ার পথে উড়োজাহাজটিতে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ ঘটে। এরপর ফ্লাইটটি তাবুকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সব যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন। তবে কী ধরনের ঘটনার কারণে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এদিকে বিমানের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে এক যাত্রীর স্বজনের বক্তব্যে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। মরিয়ম নামের এক যাত্রীর মা ইয়াসমিন আবু কাসিস জানান, তার মেয়ে বিমানের ভেতরে চিৎকার শোনার কথা বলেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে একজন পাইলটকে মেঝেতে ফেলে দেন এবং সেখানে রক্তও দেখা যায়। তবে এই বর্ণনা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে থাকা ইসরায়েলি যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় ঘটনাটি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। দুবাই ও তেল আবিবের মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে ফ্লাইদুবাই এবং এই রুটটি ইসরায়েলি যাত্রীদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয়।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যকার কোনো ফ্লাইট সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ সৌদি আরবের রিয়াদে জরুরি অবতরণ করেছিল।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 















