০৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার কাছে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

 

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম আকাশে শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় দেখা যাওয়া রহস্যময় আলোর রেখা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রথমে অনেকেই এটিকে অস্বাভাবিক কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা বা সামরিক তৎপরতা মনে করলেও পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এটি ভারতের একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দৃশ্য হতে পারে।

 

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থানরত পর্যটকরা আকাশে দীর্ঘ আলোকরেখার মতো দৃশ্য দেখতে পান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সন্ধ্যার অন্ধকার নামার আগমুহূর্তে পশ্চিম আকাশে উজ্জ্বল সাদা আলোর একটি সরু রেখা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়। কেউ কেউ এটিকে ‘মিসাইলের ধোঁয়ার রেখা’ বলেও মন্তব্য করেন।

 

স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি কোনো প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত বিষয় নয়। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।

 

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারত সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় এবং এ বিষয়ে আগাম সতর্কতামূলক তথ্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। সূত্রটি জানায়, ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় বিশেষ বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল।

 

ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের ওড়িশা উপকূলের ড. এ পি জে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটির আলোর রেখাই কক্সবাজার উপকূল থেকে দৃশ্যমান হয়েছিল। এই অঞ্চল থেকেই ভারত নিয়মিত কৌশলগত ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় আকাশপথ ব্যবহারে সতর্কতা দিতে ‘নোটাম’ বা ‘Notice to Airmen’ জারি করা হয়েছিল। এতে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে সাময়িক বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ ছিল।

 

যদিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটি ঘিরে সীমান্তবর্তী আকাশসীমা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২৯ শিশু ভর্তি

১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা, নারী চিকিৎসকে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি, সাধারণ ডায়েরী

08 May 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার কাছে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

পোষ্টের সময় : ০৭:১৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

 

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম আকাশে শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় দেখা যাওয়া রহস্যময় আলোর রেখা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রথমে অনেকেই এটিকে অস্বাভাবিক কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা বা সামরিক তৎপরতা মনে করলেও পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এটি ভারতের একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দৃশ্য হতে পারে।

 

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থানরত পর্যটকরা আকাশে দীর্ঘ আলোকরেখার মতো দৃশ্য দেখতে পান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সন্ধ্যার অন্ধকার নামার আগমুহূর্তে পশ্চিম আকাশে উজ্জ্বল সাদা আলোর একটি সরু রেখা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়। কেউ কেউ এটিকে ‘মিসাইলের ধোঁয়ার রেখা’ বলেও মন্তব্য করেন।

 

স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি কোনো প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত বিষয় নয়। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।

 

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারত সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় এবং এ বিষয়ে আগাম সতর্কতামূলক তথ্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। সূত্রটি জানায়, ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় বিশেষ বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল।

 

ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের ওড়িশা উপকূলের ড. এ পি জে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটির আলোর রেখাই কক্সবাজার উপকূল থেকে দৃশ্যমান হয়েছিল। এই অঞ্চল থেকেই ভারত নিয়মিত কৌশলগত ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় আকাশপথ ব্যবহারে সতর্কতা দিতে ‘নোটাম’ বা ‘Notice to Airmen’ জারি করা হয়েছিল। এতে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে সাময়িক বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ ছিল।

 

যদিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটি ঘিরে সীমান্তবর্তী আকাশসীমা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

Share this news as a Photo Card