১২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরিষাবাড়ীতে জিয়া খালের ওপর কাঠের ব্রিজ, স্বস্তি কৃষকদের

 

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পারাপারের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে নির্মিত হয়েছে কাঠের ব্রীজ। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গোবিন্দনগর গ্রামে জিয়া খালের উপর নির্মাণ করা হয় নতুন কাঠের ব্রীজটি। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে নির্মিত এই ব্রীজটি মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গোবিন্দনগর এলাকার জিয়া খালের পুর্ব পাশে ৫-৬টি গ্রামের প্রায় শত শত বিঘা জমির ফসল পারাপারে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। ফসল পারাপারের জন্য জিয়া খালের উপর কোনো ব্রীজ বা সেতু না থাকায় বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধি পেলে এবং সারা বছরই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো, নৌকা ও পানিতে ভিজে পারাপার করতে হতো স্থানীয় কৃষকদের। বিশেষ করে ফসল ঘরে তোলার সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো তাদের।

 

কৃষকদের দূর্ভোগের বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এমপির নির্দেশনায় ও উপজেলা পিআইও কার্যালয় থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের টিআর প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ব্যায়ে ‘জিয়া খালের উপর এ কাঠের ব্রীজটি নির্মাণ করে দেয়া হয়। নতুন কাঠের এই ব্রীজটি নির্মাণের ফলে এখন থেকে অন্তত ৫-৬টি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষিপণ্য পারাপারে সহজ হবে।

 

ব্রীজটি উদ্বোধন করেন পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ ফকির, সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হাসান সোহাগসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

স্থানীয় কৃষক আজম আলী, গুদু মিয়া, মন্টু মিয়া, খয়ার উদ্দিন ও মোতালেব হোসেন বলেন, এই ব্রীজটি হওয়াতে আমাদের ব্যাপক উপকার হয়েছে। আগে খালের পূর্ব পাশের শষ্যক্ষেত থেকে ফসল খুব কষ্ট করে পানিতে ভিজে মাথায় করে পারাপার করতে হতো। খাল থেকে রাস্তা উঁচু হওয়ার কারনে অনেক সময় পড়ে আহত হয়েছি। আবার এই গ্রামের কথা শুনলে অনেক সময় মজুর পাওয়া যেত না। এখন আমাদের দীর্ঘদিনের দূর্ভোগ লাঘব হয়েছে।

 

ব্রীজটি কেবল পারাপারই সহজ করবে না, বরং এলাকার কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

ছবিঃ ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও কৃষকগণ। ব্রীজের রেলিং লাল ও হলুদ রঙে রাঙানো হয়েছে, যা পরিবেশের সাথে দারুণ মানিয়েছে।

 

 

 

 

মোস্তাক আহমেদ মনির

সরিষাবাড়ী, জামালপুর।

মোবা: ০১৭৩৩ ১৭০ ৩৭০

তারিখ: ০৭/১০/২০২৬

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

মাদকের বিরুদ্ধে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সোচ্চার হতে হবে: বকশীগঞ্জ ইউএনও

মদনে বাসা ভাড়া নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, দুই শিক্ষিকাসহ গ্রেপ্তার ৩

06 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সরিষাবাড়ীতে জিয়া খালের ওপর কাঠের ব্রিজ, স্বস্তি কৃষকদের

পোষ্টের সময় : ০৯:২০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

 

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পারাপারের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে নির্মিত হয়েছে কাঠের ব্রীজ। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গোবিন্দনগর গ্রামে জিয়া খালের উপর নির্মাণ করা হয় নতুন কাঠের ব্রীজটি। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে নির্মিত এই ব্রীজটি মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গোবিন্দনগর এলাকার জিয়া খালের পুর্ব পাশে ৫-৬টি গ্রামের প্রায় শত শত বিঘা জমির ফসল পারাপারে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। ফসল পারাপারের জন্য জিয়া খালের উপর কোনো ব্রীজ বা সেতু না থাকায় বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধি পেলে এবং সারা বছরই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো, নৌকা ও পানিতে ভিজে পারাপার করতে হতো স্থানীয় কৃষকদের। বিশেষ করে ফসল ঘরে তোলার সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো তাদের।

 

কৃষকদের দূর্ভোগের বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এমপির নির্দেশনায় ও উপজেলা পিআইও কার্যালয় থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের টিআর প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ব্যায়ে ‘জিয়া খালের উপর এ কাঠের ব্রীজটি নির্মাণ করে দেয়া হয়। নতুন কাঠের এই ব্রীজটি নির্মাণের ফলে এখন থেকে অন্তত ৫-৬টি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষিপণ্য পারাপারে সহজ হবে।

 

ব্রীজটি উদ্বোধন করেন পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ ফকির, সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হাসান সোহাগসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

স্থানীয় কৃষক আজম আলী, গুদু মিয়া, মন্টু মিয়া, খয়ার উদ্দিন ও মোতালেব হোসেন বলেন, এই ব্রীজটি হওয়াতে আমাদের ব্যাপক উপকার হয়েছে। আগে খালের পূর্ব পাশের শষ্যক্ষেত থেকে ফসল খুব কষ্ট করে পানিতে ভিজে মাথায় করে পারাপার করতে হতো। খাল থেকে রাস্তা উঁচু হওয়ার কারনে অনেক সময় পড়ে আহত হয়েছি। আবার এই গ্রামের কথা শুনলে অনেক সময় মজুর পাওয়া যেত না। এখন আমাদের দীর্ঘদিনের দূর্ভোগ লাঘব হয়েছে।

 

ব্রীজটি কেবল পারাপারই সহজ করবে না, বরং এলাকার কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

ছবিঃ ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও কৃষকগণ। ব্রীজের রেলিং লাল ও হলুদ রঙে রাঙানো হয়েছে, যা পরিবেশের সাথে দারুণ মানিয়েছে।

 

 

 

 

মোস্তাক আহমেদ মনির

সরিষাবাড়ী, জামালপুর।

মোবা: ০১৭৩৩ ১৭০ ৩৭০

তারিখ: ০৭/১০/২০২৬

Share this news as a Photo Card