ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আড়াই বছর যাবৎ এতিম হয়ে পড়ে আছে সাড়ে ৫ কোটি টাকার সেতু। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় হচ্ছে না দু’পাশের সংযোগ সড়ক। পরিত্যক্ত পুরাতন সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে রিকশা, সিএনজি, বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কবে নাগাদ সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন হবে, সেটি নিশ্চিত জানাতে পারেনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা খালের ওপর সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই বছর আগে নির্মিত সেতু। ওই সেতুটি আঠারবাড়ী থেকে ঈশ্বরগঞ্জ আঞ্চলিক সংযোগ সড়কের জন্য নির্মাণ করা হয়। কাজ সম্পন্ন হলেও অচলাবস্থায় পড়ে আছে সেতুটি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই পুরোনো নড়বড়ে সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বিভিন্ন যানবাহন।
সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে ঈশ্বরগঞ্জ থেকে আঠারবাড়ী ১৫ কিলোমিটারের আঞ্চলিক সংযোগ সড়ক ১১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরে কাজ শুরু হয়। তবে, পাঁচ বছর কেটে গেলেও শেষ হয়নি সড়ক ও সেতুর কাজ। সড়কের বেশিরভাগ অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও অধিগ্রহণ জটিলতায় পৌর এলাকার প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং সোহাগী ইউনিয়নের কিছু অংশের কাজ আটকে আছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা খালের ওপর সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১.৮২৮ মিটার সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তাহের ব্রাদারস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুর দুই পাশের এ জমি অন্তত ১০ থেকে ১২ জন মালিকের। প্রায় আড়াই বছর আগেই সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও অধিগ্রহণের টাকা ছাড়া নিজেদের জমি ছাড়তে চাইছেন না জমির মালিকেরা। ফলে সংযোগ সড়কের অভাবে অচল অবস্থায় পড়ে আছে সেতু।
বগাপুতা গ্রামের বাসিন্দা আ. গফুর, আ. ছাত্তার বলেন, আড়াই বছর ধরে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে আছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমির সমস্যা সমাধান করতে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। জমির টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত জমি দেয়া হবে না। স্থানীয় লতিফ মিয়া ও আ. রশিদ বলেন, ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সেতুটি কোন কাজেই আসছে না। যে কারণে পুরাতন সেতু দিয়ে ঝুঁকি যানবাহন চলাচল করছে। পুরাতন সেতুর ওপর দিয়ে বড় যান পাড়াপাড়ের সময় সড়কের একপাশে ছোট-বড় বেশকিছু যানবাহনকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। দ্রæত ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতা কাটিয়ে সেতুটি চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
মো. সোহাগ নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, চোখের সামনে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হয়ে আছে। অথচ এটি কোন কাজেই আসছেনা।সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে এতদিনেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন হয়নি। মানুষের ভোগান্তি লাগবের জন্য যত দ্রæত সম্ভব জমির মালিকদের হাতে মূল্য বুঝিয়ে দিয়ে সেতুটি সচলের দাবি করেন তিনি। অটোরিকশার যাত্রী ইফরাত তানজীম তাবাসসুম বলেন, মরার একটা ব্রিজ শুধু শুধু বানিয়ে ফেলে রাখছে। সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসবে তো দূরের কথা, আরো ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ট্রাক চালক মো. ওয়াদুদ মিয়া বলেন, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন শহর থেকে চাল, ডাল, তেল, ভূষিসহ নানান ধরনের পণ্য আঠারবাড়ী (রায়ের বাজার) বাজারে সরবরাহে এটিই একমাত্র পথ। পুরো রাস্তা ঠিকঠাক মতো আসলেও পুরাতন ব্রিজটির ওপর উঠতেই কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়। মনে হয় এই বুঝি ব্রিজ ভেঙে ট্রাকসহ নিচে পড়ে গেলাম। নতুন ব্রিজটি চালু হলে আমরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারতাম। সড়ক ও জনপথের (সওজ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুস ছালাম বলেন, সেতুর দু’পাশের আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ মিটার ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক হচ্ছে না। ইতোমধ্যে জমির মালিকদের সাতধারা নোটিশ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রাক্কলন তৈরির কার্যক্রম চলমান। প্রাক্কলন তৈরি করে পাসের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রাক্কলন পাস হয়ে এলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য কতদিন সময় লাগবে আপাতত বলা যাচ্ছে না।











