০৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালো বাজারে চাল বিক্রি, ফেঁসে যাচ্ছেন খাদ্যের দুই কর্মকর্তা

  • ইলিয়াস আহমেদ
  • পোষ্টের সময় : ০৭:২৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৫৭ ভিউ :

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৫৬০ মেট্রিক টন চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর।
অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন কেন্দ্রয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ এবং ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা মোতাকাব্বির খান।
জানাযায়, উপজেলার অনুমোদনহীন ৭শ ভিজিডি কার্ডের বিপরীতে সুবিধা ভোগিদের দেওয়ার জন্য (প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে) একেক জনের নামে তিনবার করে চাল উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনকৃত চাল সুবিধা ভোগীদের না দিয়ে ডিলার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতাকাব্বির খান আত্মসাত করে। বেনামে আরও ৩শ কার্ডের বিপরীতে তোলা হয় চাল। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, এই দুই কর্মকর্তা ২৬জন ডিলাদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ওই চাল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতাকাব্বির খান ডিলারদের সাথে সমন্বয়নে ১৩ টাকা কেজি ধরে কিনে ৪৯ টাকা কেজি ধরে সংগ্রহ করে ফেলেন। এভাবে প্রায় ২৭০ মেট্রিক টন চাল গুদামে এডজাস্ট করা হয়।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল না পেয়ে সুবিধাভোগী নওপাড়া ইউনিয়নের রিয়াজ উদ্দিন, দুখু মিয়া, ঝন্টু মিয়া, হাবিবুর ছোটন, আবুল ও ফজলু মিয়া গত তিন নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে গঠন করা হয় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। অভিযোগের সত্যতা পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদনও করেছেন ইউএনও।
কেন্দ্রয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, অনুমোদনহীন ৭শ কার্ড নতুন করে ভিতরন করা হচ্ছে। ৩শ কার্ডের কোন অস্তিত্ব নেই। এখানে স্পষ্ট অনিয়ম হয়েছে। তা করেছেন ডিলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাউসার আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতাকাব্বির খান। তাদের অনিয়মের বিষয়টি লিখিত আকারে জেলা প্রশাসক স্যারকে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি। তবে এ বিষয়ে নেত্রকোণা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর নয়। এনিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি তদন্ত গঠন করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চেয়ে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.আশরাফুল আলমকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেন।

 

 

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

দল বা প্রশাসনের কেউ অপরাধে জড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: প্রিন্স

সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি, 'মাশরেকী' পদক পেলেন ঈশ্বরগঞ্জের মুজিবুর রহমান

30 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

কালো বাজারে চাল বিক্রি, ফেঁসে যাচ্ছেন খাদ্যের দুই কর্মকর্তা

পোষ্টের সময় : ০৭:২৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৫৬০ মেট্রিক টন চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর।
অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন কেন্দ্রয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ এবং ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা মোতাকাব্বির খান।
জানাযায়, উপজেলার অনুমোদনহীন ৭শ ভিজিডি কার্ডের বিপরীতে সুবিধা ভোগিদের দেওয়ার জন্য (প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে) একেক জনের নামে তিনবার করে চাল উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনকৃত চাল সুবিধা ভোগীদের না দিয়ে ডিলার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতাকাব্বির খান আত্মসাত করে। বেনামে আরও ৩শ কার্ডের বিপরীতে তোলা হয় চাল। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, এই দুই কর্মকর্তা ২৬জন ডিলাদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ওই চাল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতাকাব্বির খান ডিলারদের সাথে সমন্বয়নে ১৩ টাকা কেজি ধরে কিনে ৪৯ টাকা কেজি ধরে সংগ্রহ করে ফেলেন। এভাবে প্রায় ২৭০ মেট্রিক টন চাল গুদামে এডজাস্ট করা হয়।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল না পেয়ে সুবিধাভোগী নওপাড়া ইউনিয়নের রিয়াজ উদ্দিন, দুখু মিয়া, ঝন্টু মিয়া, হাবিবুর ছোটন, আবুল ও ফজলু মিয়া গত তিন নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে গঠন করা হয় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। অভিযোগের সত্যতা পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদনও করেছেন ইউএনও।
কেন্দ্রয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, অনুমোদনহীন ৭শ কার্ড নতুন করে ভিতরন করা হচ্ছে। ৩শ কার্ডের কোন অস্তিত্ব নেই। এখানে স্পষ্ট অনিয়ম হয়েছে। তা করেছেন ডিলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাউসার আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতাকাব্বির খান। তাদের অনিয়মের বিষয়টি লিখিত আকারে জেলা প্রশাসক স্যারকে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি। তবে এ বিষয়ে নেত্রকোণা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর নয়। এনিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি তদন্ত গঠন করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চেয়ে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.আশরাফুল আলমকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেন।

 

 

 

Share this news as a Photo Card