০৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব শুরু

ত্রিশালে তিন দিনব্যাপি নজরুল জন্মজয়ন্তীর উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। ছবি- ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস।

 

চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান কাজী নজরুল ইসলামের উত্তরাধিকার এই শ্লোগানকে ধারণ করে নজরুলের বাল্য স্মৃতি বিজরীত ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরের নজরুল মঞ্চে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী। রবিবার দুপুরে তিন দিনব্যাপী উৎসবের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে নজরুল স্বারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নজরুল গবেষক ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান এবং কবি ও নজরুল গবেষক মাহমুদুল হাছান নিজামী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক মুফিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। পরে বিকেলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। ১ম দিনে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ২৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠন নজরুলের কবিতা, গান, নৃত্য, নাটক পরিবেশন করে।

এছাড়াও নজরুলের স্মৃতি বিজরিত দরিরামপুর মাঠে বিশাল নজরুল মেলার আয়োজন করা হয়। রয়েছে বই মেলা ও কবিদের আসর। ত্রিশাল তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহের বৃহৎ এই সাংস্কৃতিক উৎসবে প্রতিদিন লক্ষাধিক কবি প্রেমিদের সমাগম ঘটে।

অপরদিকে ‘মোরা বন্ধন-হীন জন্ম-স্বাধীন, চিত্ত মুক্ত শতদল’ স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়ে জাঁকজমকভাবে দুই দিনব্যাপী ১২৬তম নজরুল জয়ন্তী শুরু হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়ের ‘গাহি সাম্যের গান মঞ্চে’ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নজরুল জয়ন্তীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর অল্প সময়ের মধ্যে এতো লিখা লিখেছেন যা বলে শেষ করার মতো নয়। মোরা বন্ধন-হীন জন্ম-স্বাধীন, চিত্ত মুক্ত শতদল কবির লিখা এমন লক্ষ লক্ষ লাইন রয়েছে। তিনি ছিলেন দ্রোহের কবি, সংগ্রামের কবি, সাম্যের কবি, প্রেমের কবি। তাঁর বিচরণ ছিল বাংলা সাহিত্যের সবখানে। কবি নজরুলের সেই সংগ্রামী আদর্শকে খুব ভালোভাবে ধারণ করে জুলাই আন্দোলনে আমাদের তরুণ প্রজন্ম নতুন একটি দেশ উপহার দিয়েছে। তারা অনেক রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে।’

প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অর্থের জন্য ইউজিসির নিকট দাবি জানায়, আমরা অর্থাৎ ইউজিসি দাবি জানাই সরকারের কাছে আর সরকার বলছে সব অর্থ তো বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে।’

উদ্বোধনী ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, নজরুল বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. জেহাদ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক রায়হানা আক্তার ও ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. জিল্লাল হোসাইন।

এর আগে সকাল ১১টায় অতিথিদের সাথে নিয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম নজরুল ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ।

দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স কক্ষে আন্তর্জাতিক নজরুল-বক্তৃতামালা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষক, গবেষক ও নজরুল অনুরাগীরা এদিন পাঁচটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া সন্ধ্যা সাতটায় ‘গাহি সাম্যের গান মঞ্চে’ আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম. কামাল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার, আইন অনুষদের ডিন জনাব মুহাম্মদ ইরফান আজিজ, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) ড. মো. আশরাফুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)সহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

 

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম

ইয়াবার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, ফুলপুরে আটক ১ 

10 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব শুরু

পোষ্টের সময় : ০৭:৫২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

 

চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান কাজী নজরুল ইসলামের উত্তরাধিকার এই শ্লোগানকে ধারণ করে নজরুলের বাল্য স্মৃতি বিজরীত ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরের নজরুল মঞ্চে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী। রবিবার দুপুরে তিন দিনব্যাপী উৎসবের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে নজরুল স্বারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নজরুল গবেষক ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান এবং কবি ও নজরুল গবেষক মাহমুদুল হাছান নিজামী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক মুফিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। পরে বিকেলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। ১ম দিনে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ২৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠন নজরুলের কবিতা, গান, নৃত্য, নাটক পরিবেশন করে।

এছাড়াও নজরুলের স্মৃতি বিজরিত দরিরামপুর মাঠে বিশাল নজরুল মেলার আয়োজন করা হয়। রয়েছে বই মেলা ও কবিদের আসর। ত্রিশাল তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহের বৃহৎ এই সাংস্কৃতিক উৎসবে প্রতিদিন লক্ষাধিক কবি প্রেমিদের সমাগম ঘটে।

অপরদিকে ‘মোরা বন্ধন-হীন জন্ম-স্বাধীন, চিত্ত মুক্ত শতদল’ স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়ে জাঁকজমকভাবে দুই দিনব্যাপী ১২৬তম নজরুল জয়ন্তী শুরু হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়ের ‘গাহি সাম্যের গান মঞ্চে’ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নজরুল জয়ন্তীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর অল্প সময়ের মধ্যে এতো লিখা লিখেছেন যা বলে শেষ করার মতো নয়। মোরা বন্ধন-হীন জন্ম-স্বাধীন, চিত্ত মুক্ত শতদল কবির লিখা এমন লক্ষ লক্ষ লাইন রয়েছে। তিনি ছিলেন দ্রোহের কবি, সংগ্রামের কবি, সাম্যের কবি, প্রেমের কবি। তাঁর বিচরণ ছিল বাংলা সাহিত্যের সবখানে। কবি নজরুলের সেই সংগ্রামী আদর্শকে খুব ভালোভাবে ধারণ করে জুলাই আন্দোলনে আমাদের তরুণ প্রজন্ম নতুন একটি দেশ উপহার দিয়েছে। তারা অনেক রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে।’

প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অর্থের জন্য ইউজিসির নিকট দাবি জানায়, আমরা অর্থাৎ ইউজিসি দাবি জানাই সরকারের কাছে আর সরকার বলছে সব অর্থ তো বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে।’

উদ্বোধনী ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, নজরুল বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. জেহাদ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক রায়হানা আক্তার ও ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. জিল্লাল হোসাইন।

এর আগে সকাল ১১টায় অতিথিদের সাথে নিয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম নজরুল ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ।

দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স কক্ষে আন্তর্জাতিক নজরুল-বক্তৃতামালা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষক, গবেষক ও নজরুল অনুরাগীরা এদিন পাঁচটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া সন্ধ্যা সাতটায় ‘গাহি সাম্যের গান মঞ্চে’ আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম. কামাল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার, আইন অনুষদের ডিন জনাব মুহাম্মদ ইরফান আজিজ, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) ড. মো. আশরাফুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)সহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

 

 

Share this news as a Photo Card