ময়মনসিংহের ত্রিশালে উজানপাড়া আলিম মাদ্রাসার খেলার মাঠ দখল করে চলছে ডাটা চাষ। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার জন্য মাঠ ব্যবহার করতে পারছে না। স্থানীয় শিশু কিশোরদের খেলার মাঠ নষ্ট করায় প্রতিবাদ জানিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী। মাদ্রাসার খেলার মাঠে ডাটা চাষ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
জানাযায়, ত্রিশাল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে প্রতিষ্টিত উজানপাড়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী চার শতাধিক। গত রোজার আগে থেকে বিদ্যালয় মাঠে ডাটা সবজির চাষ করে মাদ্রাসার মাঠ বন্ধ করেছে রেখেছে মাদ্রাসার সুপার। এতে শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। এছাড়াও স্থানীয় শিশু কিশোররা এই মাঠেই বিকেলে খেলাধুলা না করতে পেরে বাজে আড্ডায় আশক্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী,অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
রবিবার ত্রিশাল উজানপাড়া আলিম মাদ্রাসার খেলার মাঠে গিয়ে দেখা যায় পুরো মাঠ জুড়ে ডাটা সবজির ক্ষেত। স্থানীয়রা জানান এখান থেকে সবজি নিয়ে শিক্ষকরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। কখনো বিক্রিও করতে দেখা যায়নি।
মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদ বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ স্যারের উদাসীনতার কারণে মাদ্রাসা মাঠে ডাটা চাষ হচ্ছে। এতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা করতে পাচ্ছি না। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, আমাদের মাদ্রাসা মাঠে ডাটা চাষ করার করেন আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। ডাটা ক্ষেত নষ্ট হওয়ার ভয়ে চলাচলও করতে হয় মাঠে এক প্রান্ত দিয়ে। আমরা স্কুল মাঠে ফসল চায় না আমরা আমাদের খেলার মাঠ চাই।
স্থানীয় একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে বিকেলে ছেলে মেয়েরা খেলাদুলা করতো। এখন খেলতে না পেরে বাবা মায়ের মোবাইল নিয়ে আড্ডায় মেতে উঠেছে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ উসমান গণি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অনেক দিন ধরে মাদ্রাসা বন্ধ থাকার কারণে মসজিদ কমিটি আমার অনুমতি ক্রমে মাদ্রাসা মাঠে ডাটা চাষ করেছেন। এ মাদ্রাসা হওয়ার পিছনে মসজিদ কমিটি ও মাদ্রাসার দাতা সদস্যের অধিকার আছে। মানবিক ও ধর্মী দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করছি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মফিজুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য সবজি ক্ষেত করার জন্যে না। বিষয়টি সরজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, বিষয়টি সর্ম্পকে আমি অবগত নই। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রæতই পদক্ষেপ নেয়া হবে।





















