আপন রক্তের সম্পর্ককে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে, সহোদর বড় ভাইকে বাদ দিয়ে ৫ ভাইয়ের নামে জমির নামজারি বা খারিজ! শুধু তাই নয়, চলাচলের রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে আটকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে একটি পরিবারকে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের চামটা এলাকায়।
সরজমিনে ঘটনা স্থলে গেলে স্থানীয়দের বলেন, টাকার লোভে এই অমানবিক কাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন বর্তমান ইউপি সদস্য সামিউল হক গুনি (গুনি মেম্বার)। মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ৬ ছেলের মাঝে বড় ছেলে আব্দুর ছাত্তারকে প্রত্রিক সম্পদ থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে ওয়ারিশান সনদ দিয়েছেন তিনি। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই ভুয়া ওয়ারিশান সনদ তৈরি করার কারণে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন আব্দুর ছাত্তারের ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী।
ভুক্তভোগীর জাহাঙ্গীর বলেন,”আমাদের বাবা বড় ছেলে হওয়া সত্ত্বেও তাকে ওয়ারিশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা এক ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে আছি। আমাদের চলাচলের রাস্তাও টিনের বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। কিছু দিন পূর্বে আমার পাঁচ চাচা নিজেদর স্ত্রীর নামে জমি রেজিষ্টি করে দিতে গেলে আমি সঠিক কাগজ পত্র নিয়ে নান্দাইল সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানালে, তারা বাড়িতে এসে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কার কাছে বিচার চাব?”
স্থানীয় বাসিন্দার বলেন, “গুনি মেম্বার মোটা অংকের টাকা খেয়ে এই জালিয়াতিটা করছে। একটা জ্যান্ত পরিবারকে ওয়ারিশান থেকে বাদ দিয়ে দিছে! এটা কোনো বিচার হলো? এখন এই পরিবারটা অমানবিক কষ্ট পাচ্ছে।”
টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ দেওয়ার এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য সামিউল হক গুনি মেম্বারের সাথে ফোনকলের মাধ্যমে একাধিক বাব যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
নান্দাইলের চামটা এলাকার এই অসহায় পরিবারটি এখন অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবলাল সরকার বলেন, “থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাকার কাছে কি এভাবেই হেরে যাবে মানবিকতা আর রক্তের সম্পর্ক? চামটা এলাকার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।
স্টাফ রিপোর্টার, নান্দাইল 



















