ময়মনসিংহ নগরীর বাউন্ডারি রোড এলাকায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারালেন স্মিগ্ধা নামের এক তরুণী। ভালোবেসে ঘর বাঁধা ওই গৃহবধূকে মাত্র এক বছরের মাথায় হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন নিহত স্মিগ্ধার পরিবার।
বৃহস্পতিবার (০৩ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্নিগ্ধা হত্যার ফাঁসি দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই গৃহবধূ হত্যা কান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে ৩০ জুন (সোমবার) রাত ৮টার দিকে। নিহত স্নিগ্ধার পিতার নাম রঞ্জু সরকার। তার স্বামীর নাম ছিল ফারহান ওয়াসিফ শাদিন।
প্রেম করে সংসার শুরু করেছিলেন স্নিগ্ধা, স্বপ্ন দেখেছিলেন সুখের একটি জীবনের। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হলো দুঃস্বপ্নে। যার সঙ্গে জীবনের সব আশা-ভরসা জড়িয়েছিলেন, সেই মানুষটিই কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ।
স্নিগ্ধার মামা মারুফ হোসেন বলেন, “আমার ভাগ্নিকে আগে বেধড়ক মারধর করে, তারপর হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখে। এটা কোনো আত্মহত্যা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ও ছেলেটা মাদকাসক্ত ছিল এবং প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিত। তিনি আরও বলেন, “ভালোবাসা আর স্বপ্ন দেখে বিয়েটা করেছিল স্নিগ্ধা। কিন্তু তার স্বপ্নের পুরুষই তার জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই, যেন আর কোনো মেয়ের জীবন এমনভাবে নষ্ট না হয়।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্নিগ্ধার স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। তারা বলছেন, “আর কোনো মেয়ের জীবনে যেন এমন ‘চোখের পুরুষ’ না আসে, যে মিথ্যা ভালোবাসা আর স্বপ্ন দেখিয়ে এক সময় জীবনটাই ছিনিয়ে নেয়।”
স্বজনরা ঘাতক ফারহান ওয়াসিফ শাদিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচার দাবিতে আজ ডিসি অফিসের সামনে মানববন্ধনে বক্তারা বলছেন পুলিশ এখনো কোনো মামলা নেয়নি, দ্রুত মামলা নেওয়ার দাবি পরিবার ও এলাকাবাসীর।























