০৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতের খাবার খেতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার বাকৃবির শিক্ষার্থীরা, মামলার প্রস্তুতি

 

খাবারের সন্ধ্যানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে, তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মাঝে দুই জনকে রিলিজ দিয়েছে হাসপাতাল। অপর একজনের মাথায় আঘাত পাওয়ায় তাকে হাসপাতালে অবজারবেশনে রেখেছে চিকিৎসকরা।

 

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, ঈশা খাঁ হলের পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম, ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তর ও ইমন। মাওলানা ভাসানী হলের কৃষি অর্থনীতি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয় আহত হন। এছাড়াও আরও দুই থেকে তিনজন আহত হয়েছেন। তবে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হলের শিক্ষার্থীরা শেষ মোড়ে খাবার খেতে গেলে হামলার ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত হল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা চোর সন্দেহে তাদের আটক করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে হল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা ওই বহিরাগতদের ছেড়ে দেন। এরই জেরে রাত ১১টার দিকে শেষমোড় এলাকায় গেলে শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বহিরাগতরা শিক্ষার্থীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। বহিরাগতদের লোহার পাইপের আঘাতে এক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায় এবং অন্য একজন শিক্ষার্থীর নাক ফেটে যায়। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ঈশা খাঁ হলসহ অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে আসেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, রাতের খাবার খেতে আমরা শেষমোড়ের দিকে যাচ্ছিলাম। হলের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিদিনের মতো খাবার গেলে কয়েকজন স্থানীয় আমাদের বাধা দেয়। কারণ জানতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইট ছোড়া শুরু করে। আমার দুইজন সিনিয়র ভাই সামনে এগিয়ে গেলে একজনকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তার মাথা ফেটে যায়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। বারবার শিক্ষার্থীর উপর হামলা মেনে নেয়া যায় না। গত রাতের ঘটনায় মামলার মামলার প্রস্তুতি চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বাদী হয়ে রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করবেন।

 

এবিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ মামলা করতে থানায় আসছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী মধুপুরের আনারস চাষীদের ব্যাপারে আন্তরিক: চিনি ও খাদ্য কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই: প্রিন্স

02 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

রাতের খাবার খেতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার বাকৃবির শিক্ষার্থীরা, মামলার প্রস্তুতি

পোষ্টের সময় : ০৬:০৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

 

খাবারের সন্ধ্যানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে, তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মাঝে দুই জনকে রিলিজ দিয়েছে হাসপাতাল। অপর একজনের মাথায় আঘাত পাওয়ায় তাকে হাসপাতালে অবজারবেশনে রেখেছে চিকিৎসকরা।

 

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, ঈশা খাঁ হলের পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম, ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তর ও ইমন। মাওলানা ভাসানী হলের কৃষি অর্থনীতি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয় আহত হন। এছাড়াও আরও দুই থেকে তিনজন আহত হয়েছেন। তবে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হলের শিক্ষার্থীরা শেষ মোড়ে খাবার খেতে গেলে হামলার ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত হল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা চোর সন্দেহে তাদের আটক করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে হল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা ওই বহিরাগতদের ছেড়ে দেন। এরই জেরে রাত ১১টার দিকে শেষমোড় এলাকায় গেলে শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বহিরাগতরা শিক্ষার্থীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। বহিরাগতদের লোহার পাইপের আঘাতে এক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায় এবং অন্য একজন শিক্ষার্থীর নাক ফেটে যায়। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ঈশা খাঁ হলসহ অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে আসেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, রাতের খাবার খেতে আমরা শেষমোড়ের দিকে যাচ্ছিলাম। হলের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিদিনের মতো খাবার গেলে কয়েকজন স্থানীয় আমাদের বাধা দেয়। কারণ জানতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইট ছোড়া শুরু করে। আমার দুইজন সিনিয়র ভাই সামনে এগিয়ে গেলে একজনকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তার মাথা ফেটে যায়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। বারবার শিক্ষার্থীর উপর হামলা মেনে নেয়া যায় না। গত রাতের ঘটনায় মামলার মামলার প্রস্তুতি চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বাদী হয়ে রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করবেন।

 

এবিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ মামলা করতে থানায় আসছে।

 

Share this news as a Photo Card