নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় একটি ডোবা থেকে জামিরুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা পশ্চিমপাড়া গ্রামের সাজন মিয়ার ছেলে।
রোববার (১০ মে) সকালে কেন্দুয়া পৌরসভার ওয়াশেরপুর ও চকবাট্টা গ্রামের সীমান্ত এলাকায় আলহাজ্ব আতিকুর রহমান ভুইয়া একাডেমির পশ্চিম পাশে একটি ডোবায় মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামিরুল দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
নিহতের বাবা সাজন মিয়া জানান, শুক্রবার বিকেলে ছেলের সঙ্গে শেষবার দেখা হয়েছিল। সন্ধ্যার পর থেকে সে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হাঁস খামারের মালিক আলাউদ্দিন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় খামার থেকে চলে যাওয়ার পর থেকে জামিরুলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সে খুব শান্ত ও সহজ-সরল মানুষ ছিল।
নিহতের খালা ও মোজাফরপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পারভীন আক্তার বলেন, ছোটবেলায় জামিরুলের মা মারা যাওয়ার পর আমি তাকে লালন-পালন করেছি। তার মৃগীরোগ ছিল। দুই দিন ধরে তাকে খুঁজছিলাম। আজ এসে দেখি সে আর বেঁচে নেই।
স্থানীয়রা জানান, ধান কাটা শেষ হওয়ায় এলাকাটি নির্জন হয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে জামিরুল ডোবায় পড়ে গিয়ে মারা যেতে পারেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি ফুলে গিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আব্দুল হাই সেলিম কেন্দুয়া, (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 






















