ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ঈদের দিন ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ২০ বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় একটি বিয়ে বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এছাড়া শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৩১ মে) উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিবেশ উত্তপ্ত রয়েছে।
স্থানীয় সুত্র ও পুলিশ জানায়, ঈদের দিন বিকালে ওই এলাকার মরিচারচর নামক স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে আসা হাজার মানুষের ভিড়ে বিক্রি হচ্ছেলি ফুচকাসহ অন্যান্য খাদ্য। ওই সময় স্থানীয় মরিচারচর এলাকার কয়েক কিশোর পুচকার দোকানে গিয়ে ফুচকার অর্ডার দেয়। এর মধ্যে পাশের চরআলগী গ্রামের কয়েক কিশোর তারাও একই সময় ফুচকার অর্ডার দেয়।
এর মধ্যে চরআলগী গ্রামের কিশোরদের ফুচকা দিয়ে দেওয়ায় বাধসাধে মরিচার গ্রামের গ্রামের কিশোররা। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আর ওই ওই সময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিতে এগিয়ে যান মরিচার চর গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মো. ইব্রাহিম মিয়া। তিনি ঘটনা ফয়সালা করে চলে যান।
পরে রাতে ইব্রাহিমকে উচাখিলা বাজারে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেওকে ডেকে নিয়ে হামলা চালায়। ঘটনার সময় তিনি গুরুতর আহতও হন। এ ঘটনা জানতে পেরে ইব্রাহিমের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে রবিবার দুপুরে চরআলগী গ্রামে গিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় প্রায় শতাধিক খড়ের গাাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। চালানো হয় বাড়িঘরে লুটপাট।
এ দিকে হামলার সময় হতদরিদ্র নাজিম উদ্দিনের মেয়ের বিয়ে আয়োজন চলা বাড়িতে হামলা চালিয়ে রান্না করা খাবার ও অতিথিদের বসার স্থান তছনছ করে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় থালা বাসন। এতে হত দরিদ্র নাজিম উদ্দিনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত।
নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন বলেন, বিনা কারনে এমন ঘটনার পর তার ভাই জ্ঞান হারিয়ে পেলে পাগল প্রায়। বর আসার আগেই এমন ঘটনায় সকলেই হতভম্ব। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযম জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 









