বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আজ দুপুরে হালুয়াঘাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হলুয়াঘাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য ও বীরাঙ্গনাদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি তাঁদের উপহার ও ফুল প্রদান করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সংবর্ধনা দিতে পেরে তিনি নিজেও গর্বিত ও সৌভাগ্যবান। আজীবন তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কাজ করবেন—এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, হলুয়াঘাটে মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর প্রতিষ্ঠাসহ সম্মুখসমরে যুদ্ধের স্থানসমূহ চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হলুয়াঘাটের যুদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্যোগ নেবেন।
তিনি বলেন, “বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দল। এই দল কখনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেনি; বরং স্বাধীনতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপসহীনভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ জিয়ার ১৯ দফা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম এবং তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা—সব কর্মসূচিই স্বাধীনতার স্বপ্ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার আলোকে প্রণীত।”
প্রিন্স বলেন, “শহীদ জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেন এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন।”
কঠোর ভাষায় তিনি আরো বলেন, “যারা স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে ক্ষমতায় থেকে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, আর যারা মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর সহযোগী ছিল—তারাই আজ স্বাধীনতা রক্ষার স্লোগান দিচ্ছে। তারা আজ সবচেয়ে বড় ভণ্ড। জনগণ আর বিভ্রান্ত হবে না। সময় এসেছে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করে দেওয়ার।”
তিনি বলেন, “আজ তারা বলছে তারা ভালো হয়ে গেছে। খারাপ হলেই তো ভালো হওয়ার প্রশ্ন আসে। কিসের জন্য জনগণ তাদের খারাপ বলে, তারা কোন কারণে খারাপ হয়েছে—তা কিন্তু বলছে না। তারা আসলে ভালো হয়নি। তারা যদি সত্যিই ভালো হতো, তাহলে একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইত।”
বক্তব্যের শেষে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্বাধীনতার ঘোষকের দল বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি ইনক্লুসিভ, পজিটিভ ও বেটার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিজয় দিবসে শপথ হোক—আমরা একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”
সংবর্ধনার জবাবে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এমরান সালেহ প্রিন্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, হলুয়াঘাটের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, সম্মান ও স্মৃতি ধরে রাখতে এমরান প্রিন্স যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, অতীতে কেউ তা করেনি। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে তারা প্রিন্সের সব কর্মকাণ্ডে ও নির্বাচনে তাঁর পাশে থাকবেন।
সংবর্ধনার জবাবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল ঘাগড়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম।
কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হাই, আলী আশরাফ, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, শফিকুর রহমান, মিজানুর রহমান, মোনায়েম হোসেন খান খোকন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন, মনিরুজ্জামান স্বাধীন, সিদ্দিক হোসেন মোল্লা, ইসহাক আলী মাস্টার, অনোয়ার হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও আজ সকালে এমরান সালেহ প্রিন্স ধোবাউড়া ও হলুয়াঘাটে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এবং দুই উপজেলায় পৃথক পৃথক বিজয় দিবসের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।
স্টাফ রিপোর্টার 





















