১০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ মাসেও সন্ধান মেলেনি ইয়াসিনের, ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

 

নিখোঁজের পাঁচ মাসেও সন্ধান মেলেনি ১৭ বছরের ইয়াসিন মিয়ার। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর মামলা না হওয়ায় আদালতে মামলা করেছেন তার দিনমজুর বাবা হারুন মিয়া। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে ময়মনসিংহ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হয়নি। এর মধ্যে ইয়াসিনকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছেলের অবস্থান না জানা এবং মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের।

 

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই কোনাঘাটা গ্রামের ইয়াসিন গত ৯ মার্চ রাতে নিখোঁজ হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতে পুরহরি গ্রামের জিহাদ মিয়া (২২), ফয়সাল মিয়া (৩৫) ও সেলিম মিয়া (২৩) ফোন করে ইয়াসিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

পরদিন ১০ মার্চ নান্দাইল মডেল থানায় জিডি করেন হারুন মিয়া। তার অভিযোগ, মামলা করার জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেও দীর্ঘদিন মামলা করা হয়নি। পরে তিনি ময়মনসিংহের বিজ্ঞ শিশু আদালতে মামলা করেন।

 

মামলায় সেলিম, ফয়সাল, জিহাদ ও সুরুজ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৫৫/২০২৬। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দেন।

 

হারুন মিয়ার দাবি, তদন্তের অংশ হিসেবে ডিবি কার্যালয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির উপপরিদর্শক অংকর সরকার।

 

ইয়াসিনের সন্ধান না পাওয়ার মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে মুক্তিপণের দাবির অভিযোগ। হারুন মিয়ার অভিযোগ, তিন-চার দিন আগে সেলিমের বাবা সওদাগর মিয়াসহ আরও দুই-তিনজন তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ইয়াসিনকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে ইয়াসিনকে ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

 

হারুন মিয়া বলেন, তিনি একজন দিনমজুর। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। ছয় লাখ টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই। তাই ছেলের সন্ধান ও উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

পরিবারের আরও দাবি, ইয়াসিন নিখোঁজ হওয়ার পর ফয়সাল মিয়ার মোবাইল ফোনে থাকা একটি অডিও রেকর্ডে সেলিমের কণ্ঠে ইয়াসিনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার কথা শোনা যায়। অভিযুক্তদের সঙ্গে ইয়াসিনের কথোপকথনের আরও কিছু রেকর্ড রয়েছে বলেও দাবি করেছেন হারুন। এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (৯ আগস্ট) নান্দাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ছেলেকে উদ্ধারের দাবি জানান হারুন মিয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি একজন দিনমজুর মানুষ। আমার একমাত্র ছেলে পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ। সে জীবিত না মৃত, কিছুই জানি না। আমি শুধু আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।”

 

তিনি বলেন, থানায় জিডি, পরে আদালতে মামলা এবং তদন্ত শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ছেলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তিনি হতাশ। দ্রুত তদন্ত করে ইয়াসিনের অবস্থান শনাক্ত ও তাকে উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।

 

নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবলাল সরকার বলেন, ইয়াসিন নিখোঁজের পর থানায় জিডি করা হয়েছিল। ওই সময় থানায় ওসি না থাকায় তিনি নিজে এফআইআর করতে পারেননি। তবে ইয়াসিনের সন্ধান পেতে কাজ করা হচ্ছে।

 

ময়মনসিংহ ডিবির এসআই অংকর সরকার বলেন,“আদালত থেকে দেওয়া মামলার ভিত্তিতে কয়েকজনকে জিজ্ঞেসা করা হয়েছে তদন্ত চলছে। আগামী ৩০ আগস্ট আদালতে এ বিষয়ে জবাব দেওয়া হবে।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে সিলকা বিলে অভিযান, ১১ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা

09 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

পাঁচ মাসেও সন্ধান মেলেনি ইয়াসিনের, ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

পোষ্টের সময় : ০৯:৫৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

 

নিখোঁজের পাঁচ মাসেও সন্ধান মেলেনি ১৭ বছরের ইয়াসিন মিয়ার। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর মামলা না হওয়ায় আদালতে মামলা করেছেন তার দিনমজুর বাবা হারুন মিয়া। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে ময়মনসিংহ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হয়নি। এর মধ্যে ইয়াসিনকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছেলের অবস্থান না জানা এবং মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের।

 

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই কোনাঘাটা গ্রামের ইয়াসিন গত ৯ মার্চ রাতে নিখোঁজ হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতে পুরহরি গ্রামের জিহাদ মিয়া (২২), ফয়সাল মিয়া (৩৫) ও সেলিম মিয়া (২৩) ফোন করে ইয়াসিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

পরদিন ১০ মার্চ নান্দাইল মডেল থানায় জিডি করেন হারুন মিয়া। তার অভিযোগ, মামলা করার জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেও দীর্ঘদিন মামলা করা হয়নি। পরে তিনি ময়মনসিংহের বিজ্ঞ শিশু আদালতে মামলা করেন।

 

মামলায় সেলিম, ফয়সাল, জিহাদ ও সুরুজ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৫৫/২০২৬। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দেন।

 

হারুন মিয়ার দাবি, তদন্তের অংশ হিসেবে ডিবি কার্যালয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির উপপরিদর্শক অংকর সরকার।

 

ইয়াসিনের সন্ধান না পাওয়ার মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে মুক্তিপণের দাবির অভিযোগ। হারুন মিয়ার অভিযোগ, তিন-চার দিন আগে সেলিমের বাবা সওদাগর মিয়াসহ আরও দুই-তিনজন তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ইয়াসিনকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে ইয়াসিনকে ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

 

হারুন মিয়া বলেন, তিনি একজন দিনমজুর। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। ছয় লাখ টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই। তাই ছেলের সন্ধান ও উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

পরিবারের আরও দাবি, ইয়াসিন নিখোঁজ হওয়ার পর ফয়সাল মিয়ার মোবাইল ফোনে থাকা একটি অডিও রেকর্ডে সেলিমের কণ্ঠে ইয়াসিনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার কথা শোনা যায়। অভিযুক্তদের সঙ্গে ইয়াসিনের কথোপকথনের আরও কিছু রেকর্ড রয়েছে বলেও দাবি করেছেন হারুন। এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (৯ আগস্ট) নান্দাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ছেলেকে উদ্ধারের দাবি জানান হারুন মিয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি একজন দিনমজুর মানুষ। আমার একমাত্র ছেলে পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ। সে জীবিত না মৃত, কিছুই জানি না। আমি শুধু আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।”

 

তিনি বলেন, থানায় জিডি, পরে আদালতে মামলা এবং তদন্ত শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ছেলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তিনি হতাশ। দ্রুত তদন্ত করে ইয়াসিনের অবস্থান শনাক্ত ও তাকে উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।

 

নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবলাল সরকার বলেন, ইয়াসিন নিখোঁজের পর থানায় জিডি করা হয়েছিল। ওই সময় থানায় ওসি না থাকায় তিনি নিজে এফআইআর করতে পারেননি। তবে ইয়াসিনের সন্ধান পেতে কাজ করা হচ্ছে।

 

ময়মনসিংহ ডিবির এসআই অংকর সরকার বলেন,“আদালত থেকে দেওয়া মামলার ভিত্তিতে কয়েকজনকে জিজ্ঞেসা করা হয়েছে তদন্ত চলছে। আগামী ৩০ আগস্ট আদালতে এ বিষয়ে জবাব দেওয়া হবে।”

 

Share this news as a Photo Card