১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ককে নিয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠনের ডাক ইরানের

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বহিরাগত শক্তির সামরিক উপস্থিতি কমাতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে একটি আঞ্চলিক ‘ইসলামী নিরাপত্তা জোট’ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

 

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়েদ মাজিদ ইবন রেজা।

 

প্রস্তাবিত জোটে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান, ওমান ও ইয়েমেন সংলগ্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে মুসলিম দেশগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বহিরাগত শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি ও নির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে সই করা হলেও ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ইতিহাস সন্তোষজনক নয়। তাই যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দেন তিনি।

 

এ সময় গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইসরায়েলকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন সামরিক ফ্রন্ট খোলার বিষয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন বক্তব্য পুরো অঞ্চলকে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ইসলামী প্রতিরক্ষা জোটে পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ দেশটি একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। ইতোমধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে ভবিষ্যৎ জোটের সম্ভাব্য ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এছাড়া পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোট গঠনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। চলতি বছরের শুরু থেকে তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরকে নিয়ে একটি কৌশলগত সামরিক ব্লক গঠনের উদ্যোগও জোরদার করেছে ইসলামাবাদ।

 

সম্প্রতি কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারও মুসলিম দেশগুলোর জন্য ন্যাটোর আদলে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এই জোটের মাধ্যমে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি তুরস্কের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি এবং নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়।

 

তবে এতদিন শিয়া-প্রধান ইরান ও সুন্নি-প্রধান সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এ ধরনের উদ্যোগের প্রধান বাধা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান নিজেই পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা জোট গঠনের প্রস্তাব দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

 

সূত্র: মেহের নিউজ, মিডল ইস্ট মনিটর।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ফিলিস্তিনি বন্দিশিবিরের পরিখায় কুমির ছাড়া যাবে না: আদালত

তারাকান্দায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপির আনন্দ র‍্যালী

05 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ককে নিয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠনের ডাক ইরানের

পোষ্টের সময় : ১০:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বহিরাগত শক্তির সামরিক উপস্থিতি কমাতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে একটি আঞ্চলিক ‘ইসলামী নিরাপত্তা জোট’ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

 

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়েদ মাজিদ ইবন রেজা।

 

প্রস্তাবিত জোটে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান, ওমান ও ইয়েমেন সংলগ্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে মুসলিম দেশগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বহিরাগত শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি ও নির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে সই করা হলেও ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ইতিহাস সন্তোষজনক নয়। তাই যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দেন তিনি।

 

এ সময় গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইসরায়েলকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন সামরিক ফ্রন্ট খোলার বিষয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন বক্তব্য পুরো অঞ্চলকে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ইসলামী প্রতিরক্ষা জোটে পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ দেশটি একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। ইতোমধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে ভবিষ্যৎ জোটের সম্ভাব্য ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এছাড়া পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোট গঠনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। চলতি বছরের শুরু থেকে তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরকে নিয়ে একটি কৌশলগত সামরিক ব্লক গঠনের উদ্যোগও জোরদার করেছে ইসলামাবাদ।

 

সম্প্রতি কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারও মুসলিম দেশগুলোর জন্য ন্যাটোর আদলে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এই জোটের মাধ্যমে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি তুরস্কের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি এবং নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়।

 

তবে এতদিন শিয়া-প্রধান ইরান ও সুন্নি-প্রধান সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এ ধরনের উদ্যোগের প্রধান বাধা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান নিজেই পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা জোট গঠনের প্রস্তাব দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

 

সূত্র: মেহের নিউজ, মিডল ইস্ট মনিটর।

 

Share this news as a Photo Card