ময়মনসিংহ জেলার ছয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একযোগে বদলি করা হয়েছে। রোববার ও সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২ শাখা থেকে এআইজি মো. মিনহাজুল আলম স্বাক্ষরিত দুটি আলাদা প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বদলিকৃত থানাগুলো হচ্ছে—কোতোয়ালি মডেল থানা, গৌরীপুর, ভালুকা, নান্দাইল, হালুয়াঘাট এবং মুক্তাগাছা।
সোমবারের আদেশে বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খান শফিক, গৌরীপুর থানার ওসি মির্জা মাজহারুল আনোয়ার, ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. শামছুল হুদা খান এবং নান্দাইল থানার ওসি ফরিদ আহমেদ। তাদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে এবং ফরিদ আহমেদকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রোববারের প্রজ্ঞাপনে হালুয়াঘাট থানার ওসি আবুল খায়েরকে এপিবিএনে এবং মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেনকে বরিশাল রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
তবে বদলিকৃতদের মধ্যে দুই ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভালুকা থানার ওসি মো. শামছুল হুদা খান ঘুষ ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট থাকার কথাও জানা গেছে।
অপরদিকে, হালুয়াঘাট থানার ওসি আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারাকান্দা থানার ওসি হিসেবে তিনি তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক অভিযানে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তদবির ও লবিংয়ের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট থানার দায়িত্ব পান এবং দালালচক্রের সহায়তায় চোরাচালান ও অবৈধ পারাপার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই বদলিগুলোকে ঘিরে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরে আলোচনার ঝড় বইছে।















