ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেক) ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। ৫০ শয্যার এই ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন ১৩০ জন। শয্যা সংকটে মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে ২৪ শয্যা নিয়ে ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। তবে বর্তমানে নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভর্তি ১৩০ রোগীর মধ্যে ৮২ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী ও ১০ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬ জন।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১৩ জন।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খেলন সরকার (৬৫) নামে এক নারী মারা যান। তিনি ময়মনসিংহ নগরের রামবাবু রোড এলাকার বাসিন্দা। গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন গৌরীপুরের নপই গ্রামের শরিফুল ইসলাম ওরফে বিল্লাল (২৫)। গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করা শরিফুলের মা শিরিনা আক্তার বৃহস্পতিবার দুপুরে মেঝেতে মাদুর পেতে ছেলের মাথায় জলপট্টি দিচ্ছিলেন।
শিরিনা আক্তার বলেন, ১০-১২ দিন জ্বর থাকার পর পরীক্ষায় ছেলের ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে এই টাকা জোগাড় করতে হচ্ছে।
ময়মনসিংহ নগরের গোহাইলকান্দি এলাকার তৌহিদুল ইসলাম (২২) একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন। বুধবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। বারান্দার মেঝেতে ছেলের পাশে ছিলেন তাঁর বাবা ইমামুল ইসলাম।
ইমামুল ইসলাম বলেন, প্রথমে চারদিন জ্বর, বমিভাব ও শরীরব্যথা ছিল। বাড়িতে প্যারাসিটামল খাওয়ানোর পরও দুর্বলতা বাড়লে হাসপাতালে এনে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বর্তমানে তাঁর ছেলের প্লাটিলেট ৬৬ হাজারে নেমে গেছে।
মমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পারসন মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ময়মনসিংহ শহর থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছেন। আশপাশের জেলা-উপজেলা ও গ্রাম থেকেও রোগীরা আসছেন। বেশিরভাগ রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা রয়েছে। কারও কারও পাতলা পায়খানা, বমি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও খাবারে অরুচি দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সীমিত জনবল ও জায়গার মধ্যে নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আতঙ্কে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাঁদের একটি অংশ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন।
স্টাফ রিপোর্টার 






















