নেত্রকোনার আটপাড়ায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বহুল প্রতীক্ষিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন।
আগামী শনিবার (১৭ মে) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৮ সালে বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মরহুম ইদ্রিস আলী মাষ্টার ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন খায়রুল কবির তালুকদার।
এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের বাধায় উপজেলা বিএনপি আর কোনো সম্মেলন করতে পারেনি। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর সম্মেলন আয়োজন ঘিরে বিরাজ করছে ঈদের মতো সাজসাজ রব। ইউনিয়ন সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত বইছে উৎসবের হাওয়া।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান আহ্বায়ক আলহাজ্ব মাসুম চৌধুরী ও সাবেক সভাপতি খায়রুল কবির তালুকদার। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ও সদস্য সচিব খসরু আহম্মেদ।
সম্মেলনে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে মনোনীত ৪৯৭ জন কাউন্সিলর ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ৭১ জন করে কাউন্সিলর মনোনীত হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত সকল জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠনের দায়িত্বে আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
সম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পাশাপাশি আয়োজক কমিটিও নিয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ওয়াহিদুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো এবং তৃণমূলকে শক্তিশালী করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় নেতাদের মতে, এ সম্মেলন বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ওমর হাসান রুপন বলেন, “নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতার যে ধারা শুরু হয়েছে, তা আগামীতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে।”
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “আমরা আগে একাধিকবার সম্মেলন করার উদ্যোগ নিলেও আওয়ামী লীগের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। এবার আল্লাহর অশেষ রহমতে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আশা করি, এতে বিএনপির রাজনীতিতে গতি আসবে এবং প্রার্থীরা যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাবেন।”























