০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার 

 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সতেরো বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম আকন্দ(৪৫) নামে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

আজ (৯ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দকে মাইজবাগ বাজার থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এর আগে গতকাল ৮ ডিসেম্বর সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০ দশটার দিকে মাইজবাগ ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে। গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য নিজগাঁও গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে।

 

 

এ নিয়ে মঙ্গলবার ভুক্তভোগী কিশোরীর খালাতো বোন বাদী হয়ে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

কিশোরীর খালাতো বোন জানান,’প্রায় এক বছর আগে নিজগাঁও গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে

রুমন মিয়া (২১)-এর সাথে টিকটকের মাধ্যমে আমার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকেই ধীরে ধীরে প্রেম হয়। আর সেই প্রেমের আট মাস পর গত ২ নভেম্বর আমাকে বিয়ে করে রুমন। বিয়ের কিছুদিন পর রুমন আমাকে স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতেও নিয়ে আসে।

 

খালাতো বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে আসার পরই বিপত্তি শুরু হয়। দুই-তিন দিন সংসার করার পর পরিবারের লোকজন স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ডেকে এনে তাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। বিয়ের কাগজপত্র সঙ্গে না থাকায় থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইউপি সদস্য ও রুমনের পরিবার আমাকে(খালাতো বোনকে) বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সে সময় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম তরুণীকে(খালাতো বোনকে) আশ্বস্ত করে বলেন,বিয়ের ডকুমেন্ট নিয়ে আসলে বিষয়টি সমাধান করে দিবেন।

 

খালাতো বোন( তরুণী) আরও বলেন,মেম্বারের আশ্বাসের অনুযায়ী গত (৮ ডিসেম্বর) সোমবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামের রুমনের বাড়িতে বিয়ের কাগজপত্র নিয়ে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে যাই। অপরিচিত জায়গায় আমি একা অনিরাপদ ভেবে সাথে আমার খালাতো বোনকে

(কিশোরীকে) নিয়ে আসি। কিন্তু রুমনের বাড়িতে আসতেই মেম্বার আমাদের নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। বলতে শুরু করে রুমনের বাড়ি না ছাড়লে বখাটেদের দিয়ে আমাদের হেনস্তা করাবেন। সে অনুযায়ী আনুমানিক রাত সাড়ে ১০ টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার লোকজন আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এক পর্যায়ে আমার ছোট বোনকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়ি পাশের ধানক্ষেতে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় ছোট বোনের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং আমাদের সাথে থাকা দুটি মোবাইল, নগদ টাকা ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে সকালে কোনরকমে আমার ছোট বোনকে(কিশোরীকে) ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে থানায় নিয়ে আসি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

 

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার বলেন,’ ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

আ’লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

হালুয়াঘাটে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া দলিল সৃজনের অভিযোগ

17 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার 

পোষ্টের সময় : ০৮:০৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সতেরো বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম আকন্দ(৪৫) নামে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

আজ (৯ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দকে মাইজবাগ বাজার থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এর আগে গতকাল ৮ ডিসেম্বর সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০ দশটার দিকে মাইজবাগ ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে। গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য নিজগাঁও গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে।

 

 

এ নিয়ে মঙ্গলবার ভুক্তভোগী কিশোরীর খালাতো বোন বাদী হয়ে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

কিশোরীর খালাতো বোন জানান,’প্রায় এক বছর আগে নিজগাঁও গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে

রুমন মিয়া (২১)-এর সাথে টিকটকের মাধ্যমে আমার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকেই ধীরে ধীরে প্রেম হয়। আর সেই প্রেমের আট মাস পর গত ২ নভেম্বর আমাকে বিয়ে করে রুমন। বিয়ের কিছুদিন পর রুমন আমাকে স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতেও নিয়ে আসে।

 

খালাতো বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে আসার পরই বিপত্তি শুরু হয়। দুই-তিন দিন সংসার করার পর পরিবারের লোকজন স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ডেকে এনে তাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। বিয়ের কাগজপত্র সঙ্গে না থাকায় থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইউপি সদস্য ও রুমনের পরিবার আমাকে(খালাতো বোনকে) বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সে সময় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম তরুণীকে(খালাতো বোনকে) আশ্বস্ত করে বলেন,বিয়ের ডকুমেন্ট নিয়ে আসলে বিষয়টি সমাধান করে দিবেন।

 

খালাতো বোন( তরুণী) আরও বলেন,মেম্বারের আশ্বাসের অনুযায়ী গত (৮ ডিসেম্বর) সোমবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামের রুমনের বাড়িতে বিয়ের কাগজপত্র নিয়ে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে যাই। অপরিচিত জায়গায় আমি একা অনিরাপদ ভেবে সাথে আমার খালাতো বোনকে

(কিশোরীকে) নিয়ে আসি। কিন্তু রুমনের বাড়িতে আসতেই মেম্বার আমাদের নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। বলতে শুরু করে রুমনের বাড়ি না ছাড়লে বখাটেদের দিয়ে আমাদের হেনস্তা করাবেন। সে অনুযায়ী আনুমানিক রাত সাড়ে ১০ টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার লোকজন আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এক পর্যায়ে আমার ছোট বোনকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়ি পাশের ধানক্ষেতে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় ছোট বোনের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং আমাদের সাথে থাকা দুটি মোবাইল, নগদ টাকা ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে সকালে কোনরকমে আমার ছোট বোনকে(কিশোরীকে) ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে থানায় নিয়ে আসি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

 

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার বলেন,’ ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card