অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে টেস্ট জয়ের কীর্তি গড়েছে টাইগাররা।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। রান তাড়ায় শুরুতেই তানজিদ হাসানকে হারালেও এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দুজনের ব্যাটে সহজেই জয়ের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে আসা চারে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে হাসান মাহমুদ একাই শিকার করেন ৬ উইকেট। জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের বড় লিড নেয়।
বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ইনিংসে ইতিহাস গড়েন তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হন তিনি। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দিতে ভূমিকা রাখে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন করেন ১০৪ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তবে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে নায়ক ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি পাঁচ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন। হাসান মাহমুদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শেষ পর্যন্ত এক উইকেট হারিয়ে ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। মুমিনুল হকের চারে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় পেয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখে ফেলল বাংলাদেশ।
২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সেই ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রতিশোধের পাশাপাশি ঐতিহাসিক অর্জনও তুলে নিল টাইগাররা।
হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং, তানজিদের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবং শেষ মুহূর্তে মুমিনুলের চারে—সব মিলিয়ে ক্যাঙ্গারুদের ঘরের মাঠে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় লিখল বাংলাদেশ।
স্পোর্টস ডেস্ক 























