১২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে ৭ বছরেও নির্মাণ হয় নি বন্যায় ভেঙে পড়া সেতু, চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি সেতু পুন:নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১০ গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। বার বার আবদেন করেও কোন পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী এলাকার সাধারণ জনগণ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই এলাকার মানুষ।

বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের আলীরপাড়া- গোপালপুর সড়কের টাকিমারি খালের উপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যায়।

এর পর দীর্ঘ ৭ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পুনর্নির্মাণ করা হয়নি সেতুটি। ফলে গাজী আমানুজ্জামান মর্ডান কলেজ, আলীরপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের ১৫ হাজারের বেশি মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগারচর ইউনিয়নের টাকিমারি খালের উপর নির্মিত সেতুটি ছিল এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা। কিন্তু

বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সেতুটি ভেঙে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর থেকে আলীরপাড়া, বগারচর, টাকিমারি, গোপালপুর ও সারমারা সহ ১০ টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকা ব্যবহার করে পারাপার হতে হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিত হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যায় বিধ্বস্ত দুইপাশে পাকা রাস্তা রয়েছে কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় জীবনহানির ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেতু ভেঙে এমন অবস্থা হয়েছে যে বাঁশের সাঁকো দেওয়াও কঠিন।

বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে বগারচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ জানান, সেতু নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশাকরি দ্রুত ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আলহাজ গাজী আমানুজ্জামান মডার্ন কলেজের প্রভাষক জুলফিকার মামুন জানান, টাকিমারি খালের উপর সেতু না থাকায় আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ হলে শিক্ষার্থী সহ এই এলাকার হাজারো মানুষ দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবে।

বকশীগঞ্জ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো: শামছুল হক বলেন, টাকিমারি খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য কয়েকবার প্রস্তাব পাঠানে হয়েছে কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছেননা। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বরাদ্দ আসলে দ্রুত নির্মাণ করা হবে সেতুর কাজ।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

সন্তান নিতে ওপেনএআইয়ের সাবেক উপদেষ্টাকে শুক্রাণু দিয়েছিলেন মাস্ক

ঘুষের দায়ে চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

07 May 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

জামালপুরে ৭ বছরেও নির্মাণ হয় নি বন্যায় ভেঙে পড়া সেতু, চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

পোষ্টের সময় : ০৩:০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি সেতু পুন:নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১০ গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। বার বার আবদেন করেও কোন পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী এলাকার সাধারণ জনগণ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই এলাকার মানুষ।

বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের আলীরপাড়া- গোপালপুর সড়কের টাকিমারি খালের উপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যায়।

এর পর দীর্ঘ ৭ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পুনর্নির্মাণ করা হয়নি সেতুটি। ফলে গাজী আমানুজ্জামান মর্ডান কলেজ, আলীরপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের ১৫ হাজারের বেশি মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগারচর ইউনিয়নের টাকিমারি খালের উপর নির্মিত সেতুটি ছিল এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা। কিন্তু

বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সেতুটি ভেঙে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর থেকে আলীরপাড়া, বগারচর, টাকিমারি, গোপালপুর ও সারমারা সহ ১০ টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকা ব্যবহার করে পারাপার হতে হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিত হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যায় বিধ্বস্ত দুইপাশে পাকা রাস্তা রয়েছে কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় জীবনহানির ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেতু ভেঙে এমন অবস্থা হয়েছে যে বাঁশের সাঁকো দেওয়াও কঠিন।

বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে বগারচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ জানান, সেতু নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশাকরি দ্রুত ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আলহাজ গাজী আমানুজ্জামান মডার্ন কলেজের প্রভাষক জুলফিকার মামুন জানান, টাকিমারি খালের উপর সেতু না থাকায় আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ হলে শিক্ষার্থী সহ এই এলাকার হাজারো মানুষ দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবে।

বকশীগঞ্জ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো: শামছুল হক বলেন, টাকিমারি খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য কয়েকবার প্রস্তাব পাঠানে হয়েছে কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছেননা। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বরাদ্দ আসলে দ্রুত নির্মাণ করা হবে সেতুর কাজ।

 

Share this news as a Photo Card