১২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারাকান্দায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব কৃষিচর্চা বিষয়ক কর্মশালা

 

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কর্মশালা, প্রদর্শনী ও গ্রাম প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ১০টি গ্রামের ২৫ জন কৃষক ও এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী অংশ নেন।

 

আজ শনিবার উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের খিচা গ্রামে কৃষক দুলাল মিয়ার এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান।

 

কর্মশালায় কৃষকেরা নিজ নিজ বাড়িতে জৈব পদ্ধতিতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার কমানো, জৈব সার প্রয়োগ, পরিবেশবান্ধব উপায়ে বালাই ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় কৃষিজ্ঞান কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

 

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষক দুলাল মিয়া, আবুল কাসেম ও ইব্রাহিম মিয়া। তাঁরা বলেন, কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগে জৈব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণ, স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কৃষিজ্ঞান কাজে লাগানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

কৃষক আবুল কাসেম বলেন, ‘রাসায়নিক কৃষি উপকরণের ব্যবহারের ফলে বিষাক্ত উপাদান আমাদের খাবারের থালায় চলে আসছে। আমরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। এগ্রোইকোলজি চর্চা নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে।’

 

আবুল কাসেম আরও বলেন, কৃষকেরা নিজেদের বাড়িতে জৈব পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতা অন্য কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

 

কর্মশালায় অংশ নেওয়া কৃষকেরা মনে করেন, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, জৈব সার ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার মাধ্যমে কৃষির ওপর কৃষকের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে বীজ, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের চর্চা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

 

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকেরা নিজেদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজি পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তদন্তের নির্দেশ

ভেটেরিনারি শিক্ষায় নতুন সংযোজন বাকৃবির ‘সার্জারি গ্যালারি’

22 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

তারাকান্দায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব কৃষিচর্চা বিষয়ক কর্মশালা

পোষ্টের সময় : ০৯:২৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কর্মশালা, প্রদর্শনী ও গ্রাম প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ১০টি গ্রামের ২৫ জন কৃষক ও এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী অংশ নেন।

 

আজ শনিবার উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের খিচা গ্রামে কৃষক দুলাল মিয়ার এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান।

 

কর্মশালায় কৃষকেরা নিজ নিজ বাড়িতে জৈব পদ্ধতিতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার কমানো, জৈব সার প্রয়োগ, পরিবেশবান্ধব উপায়ে বালাই ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় কৃষিজ্ঞান কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

 

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষক দুলাল মিয়া, আবুল কাসেম ও ইব্রাহিম মিয়া। তাঁরা বলেন, কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগে জৈব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণ, স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কৃষিজ্ঞান কাজে লাগানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

কৃষক আবুল কাসেম বলেন, ‘রাসায়নিক কৃষি উপকরণের ব্যবহারের ফলে বিষাক্ত উপাদান আমাদের খাবারের থালায় চলে আসছে। আমরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। এগ্রোইকোলজি চর্চা নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে।’

 

আবুল কাসেম আরও বলেন, কৃষকেরা নিজেদের বাড়িতে জৈব পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতা অন্য কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

 

কর্মশালায় অংশ নেওয়া কৃষকেরা মনে করেন, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, জৈব সার ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার মাধ্যমে কৃষির ওপর কৃষকের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে বীজ, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের চর্চা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

 

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকেরা নিজেদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজি পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করেন।

 

Share this news as a Photo Card