১০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২ দিনব্যাপী পালন করা হচ্ছে।

 

দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রথম দিন ০৭ নভেম্বর (শনিবার) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ।

 

পতাকা উত্তোলন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় জীবনে দিবসটির গুরুত্ব এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, ‘দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে হলে এর পেক্ষাপট আলোচনা করা প্রয়োজন। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল পরবর্তীতে সেই চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকায় মানুষের মনে ঘোর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিক্ষুব্ধ সেনা সদস্যের হাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। বিক্ষুব্ধ সেই সেনা সদস্যরা অন্তরালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকেন। তখন দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যায় এবং চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কিছু সেনা সদস্যের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। সেই অবস্থায় এক অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ দেশের প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছিল না। এবিষয়ে গণমাধ্যমে কোন সংবাদও প্রকাশ হচ্ছিল না। পরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী ও জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত জনপ্রিয়তা ছিল। আন্দোলনরত সিপাহী জনতা সেদিন তাঁকে মুক্ত করে মাথায় নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছিল।’

 

প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে চাইলে দেশের বাঁক পরিবর্তন করতে সক্ষম। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েও তা ঘটেছিল, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব ও ২০২৪ সালে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েও ঘটেছিল। এখন আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এই দেশকে সুন্দরভাবে গড়তে পারলেই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ফলপ্রসূ হবে।’

 

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট দিবসটি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. তানজিল হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা-প্রিন্স), অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দিন, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, বিভাগীয় ও দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। সঞ্চালনায় ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য-সচিব মামুন সরকার।

 

উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষ্যে আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার বৃহৎ আকারে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

মদনে নিখোঁজের দুই দিন পর নদীতে মিলল কৃষকের অর্ধগলিত লাশ

বকশীগঞ্জে দশানীর ভাঙনে বিলীন বসতভিটা, গতিপথ ফেরানোর দাবি

05 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

পোষ্টের সময় : ০৯:৫৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২ দিনব্যাপী পালন করা হচ্ছে।

 

দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রথম দিন ০৭ নভেম্বর (শনিবার) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ।

 

পতাকা উত্তোলন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় জীবনে দিবসটির গুরুত্ব এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, ‘দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে হলে এর পেক্ষাপট আলোচনা করা প্রয়োজন। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল পরবর্তীতে সেই চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকায় মানুষের মনে ঘোর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিক্ষুব্ধ সেনা সদস্যের হাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। বিক্ষুব্ধ সেই সেনা সদস্যরা অন্তরালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকেন। তখন দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যায় এবং চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কিছু সেনা সদস্যের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। সেই অবস্থায় এক অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ দেশের প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছিল না। এবিষয়ে গণমাধ্যমে কোন সংবাদও প্রকাশ হচ্ছিল না। পরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী ও জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত জনপ্রিয়তা ছিল। আন্দোলনরত সিপাহী জনতা সেদিন তাঁকে মুক্ত করে মাথায় নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছিল।’

 

প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে চাইলে দেশের বাঁক পরিবর্তন করতে সক্ষম। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েও তা ঘটেছিল, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব ও ২০২৪ সালে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েও ঘটেছিল। এখন আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এই দেশকে সুন্দরভাবে গড়তে পারলেই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ফলপ্রসূ হবে।’

 

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট দিবসটি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. তানজিল হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা-প্রিন্স), অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দিন, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, বিভাগীয় ও দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। সঞ্চালনায় ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য-সচিব মামুন সরকার।

 

উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষ্যে আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার বৃহৎ আকারে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card