বিএনপির চেয়রাম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করে বলছে, বিএনপি নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তাহলে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সংসদে তাদেরও তো দুইজন সদস্য ছিল বিএনপির সরকারে ছিল। বিএনপি যদি এতই খারাপ হতো তাহলে তারা কেন সংসদ ছেড়ে চলে আসেনি।
সেজন্যই আসেনি কারণ তারা জানতো খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে। তারা ভালো করেই জানতেন খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। সবদলের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করে। যে কারণে স্বৈরাচার পালিয়েছে খালেদা জিয়ার সময় এমন ছিল। এক সাথে একে অন্যের দোষারোপ করছে তাহলে আপনারাই বলুন তারা কেমন।
মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপি আয়োজিত নগরের সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, দেশে ১৬ বছর গুম খুন নির্যাতনের শিকার হয়েছে অসংখ্য মানুষ। কারণ তাদের কোন স্বাধীনতা বা অধিকার ছিল না। আগামী ১২ তারিখ যে ভোট হবে তার মাধ্যমে অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষের ন্যায্য অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেই জন্য দরকার ভোটের অধিকার। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর বলুন সবখানেই অনেক সমস্যা রয়েছে। ভাঙা চূড়া রাস্তাঘাট। কারণ একযোগেরও বেশি সময় ধরে সেগুলো সংস্কার বা নতুন করে হয়নি। ভোটের অধিকার ছিল না তাই এগুলো হয়নি, ভোটের অধিকার থাকলে জনগণের সমস্যা সমাধান হতো। আমিডামি নির্বাচন হয়েছিল যে কারেন জনগণের প্রতিনিধিত্ব হয়নি। এলাকার মা বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
একজন অভিভাবক চায় তার সন্তান যেন সঠিক শিক্ষা পায়, একজন অভিভাবক চায় তার সন্তানের শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করণ। তার সন্তান কর্মহীন থাকবে না।
তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চলে কৃষক ভাইদের অনেক সমস্যা রয়েছে। মাছের পোনা চাষ করতে গিয়ে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে মাছের পোনা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদেশেও রপ্তানি করা যায় কিভাবে তার ব্যবস্থা করা। যাতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে অর্ধেক নারী এবং অর্ধেক পুরুষ। নারীকে পিছনে রেখে কোনভাবেই দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এজন্যই আমরা গৃহিণীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। যাতে করে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি। এতে স্বাচ্ছন্দে তারা অন্তত হলেও কয়েকটি দিন অতিবাহিত করতে পারবে। দেশ পরিচালনা করতে একটি রাজনৈতিক দলের সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে তারা জনগণের জন্য কি করবে।
বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিভাবে গ্রাম অঞ্চলে রাস্তাঘাট করতে হয়, চিৎকার মান উন্নয়ন করতে হয়, বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কিভাবে কঠোর হাতে নিরাপদ রাখতে হয়, কিভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়।
তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহের বড় সমস্যা চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিশেষ করে শিশুরা এবং মা-বোনদের অনেক চিকিৎসার সমস্যা বেশি। ঘরে বসে তারা যেন চিকিৎসা পেতে পারে, সেই জন্যই আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে চাই। হেলথ কিয়ারে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেয়া হবে।’
সারা জেলায় অসংখ্য খাল রয়েছে। খালগুলো পুন:খনন করে দেয়া হবে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে। আগামী ১২ তারিখ ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করলে সবাইকে সাথে খাল খনন শুরু করা হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি তাহাজ্জতের নামাজ আদায় করে সকলকে নিয়ে ভোট কেন্দ্র যাওয়ার আহবান জানান তারেক রহমান। পরে বিভাগের ২৪ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদ আবু ওয়াহাব আকন্দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম—আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।
তারেক রহমান মঞ্চে উঠার আগে বক্তব্য রাখেন বিভাগের চারজেলা থেকে আগত ধানের শীষের মনোনীত ২৪জন প্রার্থী স্থানীয় এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আগামীতে বৃহৎ স্বার্থে ধানের শীষকে নিবার্চনে বিজয়ী করতে হবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী না হতে পারলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না। এই নিবার্চনে মাধ্যমে মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে।
এর আগে ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দরা মিছিলে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। নেতাকর্মীদের মিছিল ও স্লোগানে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় ময়মনসিংহ। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয় সার্কিট হাউস মাঠ।
স্টাফ রিপোর্টার 




















