“প্রযুক্তির যুগে সাক্ষরতার প্রসার” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে রঙিন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য র্যালী ও মতবিনিময় সভা পালিত হয়েছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি ও গণসাক্ষরতা অভিযানের আয়োজনে মেহগনি রোড থেকে শুরু হওয়া র্যালীটি জয়নুল উদ্যান পর্যন্ত অতিক্রম করে। হাতে ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে অংশগ্রহণকারীরা সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারের আহ্বান জানান।
র্যালী শেষে গ্রীন পয়েন্ট রেস্তোরায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তারা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার মূল চাবিকাঠি হলো সাক্ষরতা, আর বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে তা কেবল পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডিজিটাল দক্ষতা, অনলাইন শিক্ষা ও প্রযুক্তির ব্যবহারই এখন সাক্ষরতার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
সহকারী উপজেলা কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি শিক্ষার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। অনলাইন শিক্ষা, ই-লাইব্রেরি ও ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সহযোগিতাও জরুরি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, মাধ্যমিক স্তরে প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল কনটেন্ট ও স্মার্ট ক্লাসরুম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে শিক্ষকদেরও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ সেবা পেতে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে তাদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি, যাতে শিশুরা প্রযুক্তির অপব্যবহার না করে, বরং শিক্ষামুখী কাজে ব্যবহার করে।
জেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য রেবেকা সুলতানা বলেন, সাক্ষরতার প্রসারে সরকার ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব।
সদস্য রকিব হোসেন বলেন, বর্তমান যুগে সাক্ষরতা মানে কেবল পড়ালেখা জানা নয়, বরং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতাও এর অন্তর্ভুক্ত। স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ নতুন জ্ঞান অর্জন করছে, যা ত্বরান্বিত করতে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই।
সভায় উপস্থিত অতিথিরা সর্বসম্মতিক্রমে মত প্রকাশ করেন যে, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার প্রসার ঘটানো গেলে ময়মনসিংহ জেলা অচিরেই সাক্ষরতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু ময়মনসিংহ নয়, বরং সারাদেশই শিক্ষার অগ্রগতিতে এগিয়ে যাবে।
শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত 






















