ময়মনসিংহে উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস-২০২৫ পালিত হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর জয়নুল উদ্যান চত্বরে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, প্রাণ, খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক খানি এবং ব্রট এর যৌথ উদ্যোগে এই দিবস পালন করা হয়।
এ উপলক্ষে গ্রামীণ নারীদের পদযাত্রা, বিভাগীয় কমিশনারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান এবং “খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য ও পুষ্টিহীনতা: গ্রামীণ নারীর ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক নীতি সংলাপ আয়োজন করা হয়। পদযাত্রাটি টাউন হল চত্বর থেকে শুরু হয়ে গ্রীন পয়েন্ট ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে অনুষ্ঠিত হয় মূল নীতি সংলাপ পর্ব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জনাব বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, “গ্রামীণ নারীরা আজ কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পারিবারিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের উদ্যোগ ও নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে”।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জহুরা। তিনি বলেন, “নারীদের উন্নয়ন মানে পরিবারের উন্নয়ন। তাই গ্রামীণ নারীদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ আরও সম্প্রসারিত করতে হবে।”
নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধি অধ্যাপক লীলা রায় বলেন, “গ্রামীণ নারীদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারা কেবল ভুক্তভোগী নয়, পরিবর্তনের নেতৃত্বদাতা।”
ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় বলেন, “গণমাধ্যমকে গ্রামীণ নারীর সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্পগুলো তুলে ধরতে হবে, যাতে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।”
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের সভাপতি সেলিমা বেগম। তিনি বলেন, “গ্রামীণ নারীরা শুধু কৃষিক্ষেত্র নয়, সমাজ পরিবর্তনেরও অগ্রদূত। তাদের জন্য নিরাপদ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের দায়।”
স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির জেলা সমন্বয়কারী ইমন সরকারের সঞ্চালনায় সূচনাবক্তা হিসেবে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হলে নারীদের ভূমিকা স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
নীতিসংলাপে অংশ নিয়ে গ্রামীণ নারী কৃষক শারমিন আক্তার বলেন, “আমরা মাঠে কাজ করি, কিন্তু আমাদের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণে শোনা যায় না। আমাদের অধিকার ও অবদানের স্বীকৃতি চাই।”
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর হোসেন গ্রামীণ নারীদের জন্য ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, “আমরা প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ ও উদ্যোক্তা সহায়তার মাধ্যমে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছি।”
এসময় বক্তারা গ্রামীণ নারীদের অধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও পুষ্টির ক্ষেত্রে সমন্বিত নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান।
শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত 















