ময়মনসিংহে হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে গর্ভের শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার পর হাসপাতাল বন্ধের নোটিশ জারি করেছেন জেলা সিভিল সার্জন। একই সঙ্গে গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জেলার সির্ভিল সার্জন ডা. মো. সাইফুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নোটিশ জারি করা হয়।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ডা. মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র যাচাই বাছাই করা হয়েছে। এতে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের লাইসেন্স পাওয়া গেলেও প্রতিষ্ঠানটির বৈধতার বিষয়ে আরও অনেক ত্রুটি রয়েছে। মূলত হাসপাতালটি নিয়মবহির্ভূত ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। যা প্রাইভেট হাসপাতাল পরিচালনার পরিপন্থি। ফলে গর্ভের শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপেটি না পাওয়া পর্যন্ত হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য নিদের্শ দেয়া হয়েছে।’
তবে তাৎক্ষনিকভাবে তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে গত ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ব্রাহ্মপল্লী রোডস্থ হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে এই শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো থানায় এনিয়ে কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি।
তবে ঘটনাটি জানতে পেরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাসপাতালের মালিক-ম্যানেজারসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হলেন- হাসপাতালের মালিকার অংশিদার রঞ্জণ দে, মো: পাপ্পু এবং ম্যানেজার মো: মজিবুর রহমান।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শিবিরুল ইসলাম খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ২ আগস্ট গর্ভবর্তী রোগীটিকে জামালপুর হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করা হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। কিন্তু রোগীটি ময়মনসিংহ আসলে মো: হান্নান নামের এক দালাল এই রোগীটিকে ফুসলিয়ে ওই হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু তখন ওই হাসপাতালে ডাক্তার না থাকার কারণে রোগীটি প্রায় আড়াই ঘন্টা অপেক্ষা করে বেরিয়ে যেতে চায়। এ সময় হাসপাতালের মালিক পক্ষ লিফট বন্ধ করে দেয়। এ সময় রোগীটিকে সিড়ি বেয়ে নামাতে গেলে পড়ে যায়। এতে গর্ভবর্তী মা জরায়ুতে আঘাতপপ্রাপ্ত হয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে গর্ভের শিশুটি মারা যায়।
ওসি আরও জানান, হাসপাতালটিতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আমরা হাসপাতালের মালিক-ম্যানেজারসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রেখেছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে জানতে গর্ভবর্তীর নারীর স্বামী ও ময়মনসিংহ নগরীর ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই লুৎফর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি রোগীর কাছে ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।’ এরপর আরও কয়েকবার তাকে ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এছাড়াও বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও হাসপাতালটির মালিক পক্ষের কারো বক্তব্য জানা যায়নি। এমনকি সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়েও দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি।
স্টাফ রিপোর্টার 






















