০৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শত্রুর কার্যকলাপ বুঝতে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা শিখবে ইসলাম

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সম্প্রতি একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার আওতায় তাদের গোয়েন্দা শাখার সব সদস্যদের জন্য ইসলাম ধর্ম, আরবি ভাষা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি বিষয়ে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে।

 

শুক্রবার (২৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।

 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মতে, গোয়েন্দা ইউনিটে কর্মরত সৈন্যদের জন্য এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি, কারণ তারা মূলত শত্রু পক্ষের কথাবার্তা, আচরণ ও মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণের দায়িত্বে থাকে। ইসলাম ধর্ম এবং আরবি ভাষা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও গভীর জ্ঞান থাকলে তারা আরও নিখুঁতভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট বুঝতে পারবে।

 

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সৈন্যদেরকে শুধুমাত্র আরবি পড়া ও বলাই শেখানো হবে না— পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক নীতিমালা, বিভিন্ন মাজহাব বা ধর্মীয় মতপার্থক্য, ইবাদত পদ্ধতি, উৎসব, সামাজিক রীতিনীতি, এবং মুসলিম সমাজে প্রচলিত সংস্কার নিয়েও শিক্ষা দেওয়া হবে। এতে করে তারা শুধু ভাষায় পারদর্শী হবে না, বরং মুসলিম সমাজ ও সংস্কৃতির সূক্ষ্ম দিকগুলো সম্পর্কেও সংবেদনশীল ও সচেতন হবে।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র, “এ সময়ে গোয়েন্দা কাজ শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বোঝাও অত্যন্ত জরুরি। আমাদের সৈন্যরা যদি ইসলাম ধর্ম এবং আরবি ভাষা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানে, তাহলে তারা আরও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শত্রুপক্ষের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।”

 

এছাড়াও, এই কর্মসূচি সৈন্যদের মধ্যে একটি নৈতিক সচেতনতা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সময় যাতে তারা আরও মানবিক, সংবেদনশীল এবং সংযমী আচরণ করতে পারে, সেই লক্ষ্যও এতে রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোয়েন্দা বাহিনীতে সাংস্কৃতিক বোধ ও ভাষাগত দক্ষতা থাকলে, তা শুধু সামরিক সাফল্যই বাড়ায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার জন্যও সহায়ক হয়। ইসরায়েল সেনাবাহিনী এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং এটিকে তাদের গোয়েন্দা কার্যক্রমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

 

এই নতুন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ২০২৫ সালের মধ্যেই গোয়েন্দা ইউনিটের সব সদস্যদের ওপর কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিএনপি বদ্ধপরিকর: প্রিন্স

৩৪ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে বিপাকে, হালুয়াঘাটে সাজাপ্রাপ্ত নারী গ্রেফতার

07 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

শত্রুর কার্যকলাপ বুঝতে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা শিখবে ইসলাম

পোষ্টের সময় : ০৫:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সম্প্রতি একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার আওতায় তাদের গোয়েন্দা শাখার সব সদস্যদের জন্য ইসলাম ধর্ম, আরবি ভাষা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি বিষয়ে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে।

 

শুক্রবার (২৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।

 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মতে, গোয়েন্দা ইউনিটে কর্মরত সৈন্যদের জন্য এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি, কারণ তারা মূলত শত্রু পক্ষের কথাবার্তা, আচরণ ও মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণের দায়িত্বে থাকে। ইসলাম ধর্ম এবং আরবি ভাষা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও গভীর জ্ঞান থাকলে তারা আরও নিখুঁতভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট বুঝতে পারবে।

 

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সৈন্যদেরকে শুধুমাত্র আরবি পড়া ও বলাই শেখানো হবে না— পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক নীতিমালা, বিভিন্ন মাজহাব বা ধর্মীয় মতপার্থক্য, ইবাদত পদ্ধতি, উৎসব, সামাজিক রীতিনীতি, এবং মুসলিম সমাজে প্রচলিত সংস্কার নিয়েও শিক্ষা দেওয়া হবে। এতে করে তারা শুধু ভাষায় পারদর্শী হবে না, বরং মুসলিম সমাজ ও সংস্কৃতির সূক্ষ্ম দিকগুলো সম্পর্কেও সংবেদনশীল ও সচেতন হবে।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র, “এ সময়ে গোয়েন্দা কাজ শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বোঝাও অত্যন্ত জরুরি। আমাদের সৈন্যরা যদি ইসলাম ধর্ম এবং আরবি ভাষা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানে, তাহলে তারা আরও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শত্রুপক্ষের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।”

 

এছাড়াও, এই কর্মসূচি সৈন্যদের মধ্যে একটি নৈতিক সচেতনতা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সময় যাতে তারা আরও মানবিক, সংবেদনশীল এবং সংযমী আচরণ করতে পারে, সেই লক্ষ্যও এতে রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোয়েন্দা বাহিনীতে সাংস্কৃতিক বোধ ও ভাষাগত দক্ষতা থাকলে, তা শুধু সামরিক সাফল্যই বাড়ায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার জন্যও সহায়ক হয়। ইসরায়েল সেনাবাহিনী এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং এটিকে তাদের গোয়েন্দা কার্যক্রমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

 

এই নতুন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ২০২৫ সালের মধ্যেই গোয়েন্দা ইউনিটের সব সদস্যদের ওপর কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card