গত ছয় মাসে অন্তত ৭৭০ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। সম্প্রতি কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব বাংলাদেশিকে আটক করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এরপর তাদের রেল ও সড়কপথে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, দিল্লি পুলিশ এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে ৫২০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করে, যাদের মধ্যে ৪৭০ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। এই অভিযানটি কাশ্মির হামলার পর ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
দিল্লি পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২২০ জন অবৈধ বাংলাদেশি ও ৩০ জন ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ বিদেশিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ও আগরতলায় পাঠানো হয়। এরপর সড়কপথে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে তাদের বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানঘাঁটি থেকে অন্তত ৩-৪টি বিশেষ ফ্লাইটে এসব অভিবাসীকে আগরতলা পাঠানো হয়। ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের প্রাথমিকভাবে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ২৬৫ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অভিবাসীর তথ্য যাচাই করেছে। এদের মধ্যে ৩৩ হাজার ২১৭ জনের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেলেও, বাকি ২৭৮ জনের কাগজ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
এই অভিযান অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ভারতের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নীতিমালার অংশ হিসেবেই চালানো হয়েছে।
















