ময়মনসিংহ সদর উপজেলা অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তি অভিভাবকদের নিয়ে (এডিএল) বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার,মোঃ আরিফুল ইসলাম।
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার (এনডিডি) যেমন—অটিজম, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পালসি ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু এবং ব্যক্তিদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে “Activities of Daily Living (ADL)” বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক আচরণ এবং পারিবারিক পরিবেশে শিশুদের কার্যকরভাবে সহায়তা করার বিভিন্ন কৌশল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে আরও দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের উন্নয়ন এবং সমাজে তাদের মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিশু ও ব্যক্তিদের সক্ষমতা বিকাশে অভিভাবকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের আত্মনির্ভরশীল জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রে ১৭ ধরনের সেবা বিনামুল্যে দেওয়া হয়। যেমন: ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি, সাইকো থেরাপি, সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলিং, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, দরিদ্র এনডিটি ব্যক্তির সাধারণ চিকিৎসা জনিত বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সহায়ক উপকরণ প্রদান, প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তির অভিভাবক/ কেয়ার গিভার শিশু ও ব্যক্তির ব্যবস্থাপনা এক্টিভিটিস অফ ডেইলি লিভিং (এডিএল) বিষয়ক প্রশিক্ষণ, প্রতিভা অন্বেষণ ও লালন, নিজস্ব যানবাহনের মাধ্যমে সেবাদান কেন্দ্রে যাতায়াতের সুবিধা, পত্রিকা প্রকাশ, গণ সচেতনতা সৃষ্টি, এনডিডি ব্যক্তি /এনডিডি শিশুর পিতা/মাতার কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এনডিডি ব্যক্তি/এনডিডি শিশুর বাসস্থান মডিফিকেশন করা, এনডিডি ব্যক্তি/ এনডিডি শিশুর কার্যকরী থেরাপিউটিক সেবার পদ্ধতি, মডেল, তত্ত্ব সৃষ্টি করতে গবেষণা করা, সেমিনার করা করা।
এদিকে কেন্দ্রে সেবা গ্রহীতাদের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায, সেবাগ্রহীতার চাপ থাকায় তারা সঠিক ভাবে সিডিউল পাচ্ছে না এবং পার্শ্ববর্তী জেলায় অফিস না থাকার কারনে এ অফিসের পাশে বাসাভাড়া নিয়ে সন্তানের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এই কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো:ছানোয়ার হোসেন জানান, আমরা প্রতিদিন সিডিউল অনুযায়ী গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। উক্ত সেবাদান কেন্দ্রে ময়মনসিংহ জেলার মানুষ ছাড়াও জামালপুর,শেরপুর এবং নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশের মানুষ নিয়মিত এই কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসে। এনডিডি শিশু ও ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য এই ধরনের কেন্দ্রের কোন বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি সেন্টারে একটি থেরাপি সেশন নিতে গেলে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় যা অসহায়, দরিদ্র মানুষের পক্ষে অসম্ভব ব্যাপার। কিছু সেবা গ্রহীতা আমাকে বলে স্যার আপনাদের এই গাড়ী সুবিধা না থাকলে আমি আমার সন্তানকে নিয়ে আপনাদের এখানে চিকিৎসা নিতে আসতে পারতাম না। কেননা আমাদের সেবাদান কেন্দ্রে সকল চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা সম্পন্ন বিনামূল্যে তারা পেয়ে থাকে। তাই অতিসত্বর অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

স্টাফ রিপোর্টার 


























