১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকৃবিতে এক রাতেই চার হলে সংঘর্ষ: পৃথক দুই তদন্ত কমিটি গঠন

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) উপাচার্যের আদেশক্রমে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

 

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ ও ২ আগস্ট সংঘটিত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

চার সদস্যের এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞাকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন এনাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান মজুমদার। কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি.এইচ.এম. সাগর সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

 

অন্যদিকে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৩ জুলাই দিবাগত রাত এবং ২৪ জুলাই সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় পূর্বে গঠিত তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত সাত সদস্যের কমিটিকে ঘটনার কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আদহামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল হাসান ভূঞা, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম, এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক এবং উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ। এডিশনাল রেজিস্ট্রার (সংস্থাপন-২) ড. মো. মঞ্জুর হোসেন সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

সোমবার (০৩ আগস্ট) বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিগুলো ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেই হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি এবং আহতদের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি সভা শেষ করেছি এবং আশা করছি খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, আজ মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রোভোস্ট কাউন্সিল, প্রক্টোরিয়াল বডি ও অ্যাডভাইজরি বডির সদস্যদের নিয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে পাওয়া কাগজপত্র, আমাদের পর্যবেক্ষণ এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে যারা দোষী বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অর্ডিন্যান্স রয়েছে এবং সেই অর্ডিন্যান্স অনুসারেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। এরপর ২ আগস্ট রাতে অনলাইনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হন। সর্বশেষ ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে পৃথক দুই ঘটনায় এই চারটি হলের শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়েন, যা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নজরুল কর্ণার’ উদ্বোধন

পাকিস্তানে বিক্ষোভের মাঝে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৭

03 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বাকৃবিতে এক রাতেই চার হলে সংঘর্ষ: পৃথক দুই তদন্ত কমিটি গঠন

পোষ্টের সময় : ০৯:১৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) উপাচার্যের আদেশক্রমে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

 

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ ও ২ আগস্ট সংঘটিত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

চার সদস্যের এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞাকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন এনাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান মজুমদার। কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি.এইচ.এম. সাগর সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

 

অন্যদিকে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৩ জুলাই দিবাগত রাত এবং ২৪ জুলাই সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় পূর্বে গঠিত তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত সাত সদস্যের কমিটিকে ঘটনার কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আদহামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল হাসান ভূঞা, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম, এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক এবং উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ। এডিশনাল রেজিস্ট্রার (সংস্থাপন-২) ড. মো. মঞ্জুর হোসেন সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

সোমবার (০৩ আগস্ট) বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিগুলো ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেই হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি এবং আহতদের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি সভা শেষ করেছি এবং আশা করছি খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, আজ মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রোভোস্ট কাউন্সিল, প্রক্টোরিয়াল বডি ও অ্যাডভাইজরি বডির সদস্যদের নিয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে পাওয়া কাগজপত্র, আমাদের পর্যবেক্ষণ এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে যারা দোষী বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অর্ডিন্যান্স রয়েছে এবং সেই অর্ডিন্যান্স অনুসারেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। এরপর ২ আগস্ট রাতে অনলাইনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হন। সর্বশেষ ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে পৃথক দুই ঘটনায় এই চারটি হলের শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়েন, যা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

 

Share this news as a Photo Card