ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের শপথ অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব ছিল ‘দ্বৈত শপথ’—অর্থাৎ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি নবনির্বাচিত সদস্যদের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ নিতে হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সকল সংসদ সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান।
বিএনপির অনড় অবস্থান
দিনের শুরুতে রীতি অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। তবে বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকার করেছে। সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় এমপিদের জানান, দল আপাতত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নাটকীয়তার পর জামায়াতের শপথ
বিএনপির এমন সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়। সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার প্রাথমিক ঘোষণা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১১ দলীয় জোটের নেতারা জরুরি বৈঠকে বসেন। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দুপুরে জামায়াতের নবনির্বাচিত এমপিরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ—উভয় পদেই শপথ গ্রহণ করেন।
এনসিপির পূর্ণ অংশগ্রহণ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত ৬ জন সংসদ সদস্যই আজ উভয় শপথ গ্রহণ করেছেন। শুরুতে বিএনপির সিদ্ধান্তের কারণে তারা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে তারা দ্বিতীয় শপথটিও গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, এনসিপি সম্প্রতি ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করেছে, যার জন্য প্রধান উপদেষ্টা তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 



















