জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অফ দ্য আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। আজ বৃহস্পতিবার (১১জুন) উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮টি দল নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। তিন দেশের ১৬টি শহরে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে।
তিন দেশে একসঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
তিনটি দেশেই আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে, তবে সব অনুষ্ঠান একটি অভিন্ন থিমে যুক্ত থাকবে। এই থিমের মূল উদ্দেশ্য হলো ফুটবলের মাধ্যমে তিন দেশের ঐক্য এবং তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরা।
প্রতিটি আয়োজক দেশের অনুষ্ঠান শুরু হবে তাদের প্রথম ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে। অনুষ্ঠানগুলো পরিচালনা করছেন বিখ্যাত ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচ, যিনি একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তৈরি করেছেন।
কানাডা তাদের অনুষ্ঠানে তুলে ধরবে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। মেক্সিকো দেখাবে ঐতিহ্যবাহী পাপেল পিকাদো। যুক্তরাষ্ট্রে থাকবে আধুনিক ও ঝলমলে ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটি মুহূর্ত, যা পুরো বিশ্ব একসঙ্গে ভাগ করে নেয়। এই উদযাপন শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই।’
মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠান প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড চলবে। টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠান প্রায় ১৩ মিনিট করে চলবে।
অনুষ্ঠান শেষে খেলোয়াড়রা মাঠে ওয়ার্মআপ করবেন। এরপর ম্যাচ শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রি-ম্যাচ অনুষ্ঠান ও খেলোয়াড় পরিচিতি শুরু হবে, যা প্রায় ১৩ মিনিট চলবে।
উদ্বোধনী ম্যাচে কারা মুখোমুখি
উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির অ্যাজট্রেকা স্টেডিয়ামে।
কানাডা টরন্টোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলবে। এটি কানাডার জন্য ঐতিহাসিক ম্যাচ, কারণ প্রথমবারের মতো তারা নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে।
যুক্তরাষ্ট্র লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে।
কোথায় ও কখন হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
মেক্সিকো সিটি (১১ জুন)
মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় দুপুর ১১টা ০০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে।
এখানে মেক্সিকোর সংস্কৃতি, আদিবাসী পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী পাপেল পিকাদো তুলে ধরা হবে।
এতে অংশ নেবেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্দা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেস এবং মানা। দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা টাইলা-ও পারফর্ম করবেন।
শাকিরা ‘দাই দাই’ পরিবেশন করবেন এবং বার্না বয়ও পারফর্ম করবেন। শাকিরা ১৯ জুলাই ফাইনালের হাফটাইম শোতেও অংশ নেবেন, যেখানে থাকবেন ম্যাডোনা এবং কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস।
মেক্সিকো সিটিতে ১১ জুন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল বন্ধ রয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানকে রিমোট কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
টরন্টো (১২ জুন)
টরন্টোতে অনুষ্ঠান শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে, কানাডা বনাম বসনিয়া ম্যাচের আগে।
এখানে কানাডার সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে। পারফর্ম করবেন আলানিস মোরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, সানজয়, ভেজেড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্স।
কানাডার জন্য এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ তারা প্রথমবার নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ খেলবে।
লস অ্যাঞ্জেলেস (১২ জুন)
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে।
এখানে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, লিসা, রিমা এবং টাইলা। অনুষ্ঠানটি আধুনিক ভিজ্যুয়াল ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।
কীভাবে দেখবেন
যুক্তরাষ্ট্রে দর্শকরা ফক্স এবং এফএস১ চ্যানেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ দেখতে পারবেন। স্প্যানিশ ভাষায় টেলিমুন্ডো ও ইউনিভার্সোতে সম্প্রচার হবে।
ফ্রি স্ট্রিমিংয়ের জন্য টুবি প্ল্যাটফর্মে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ দেখা যাবে। ফক্স ওয়ান অ্যাপে সব ম্যাচ সাবস্ক্রিপশনসহ দেখা যাবে। পিকক এবং টেলিমুন্ডো অ্যাপেও স্প্যানিশ ভাষায় সব ম্যাচ স্ট্রিম করা যাবে।
কানাডায় সিটিভি, টিএসএন এবং আরডিএস সম্প্রচার করবে। মেক্সিকোতে টেলিভিসা ও টিভি অ্যাজটেকা সম্প্রচার করবে। যুক্তরাজ্যে বিবিসি ও আইটিভি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
বাংলাদেশে বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার দেখা যাবে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকবে।
দর্শকরা মোবাইলেও বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন সাবস্ক্রিপশন নিয়ে। কিছু প্ল্যাটফর্ম বিশেষ অফারে ৯৭ টাকা বা ৯৯ টাকায় পুরো টুর্নামেন্ট দেখার সুযোগ দিচ্ছে।
‘Toffee’ অ্যাপে মাত্র ৯৯ টাকার আর্লি বার্ড পাসে পুরো বিশ্বকাপ দেখা যাবে। গ্রামীণফোনের ‘Bioscope’ অ্যাপে মাত্র ৯৭ টাকায় পুরো টুর্নামেন্ট স্ট্রিম করা যাবে।
দর্শক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিক দর্শক সংখ্যা জানায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনটি অনুষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ দর্শক উপস্থিত থাকতে পারে।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশন ও অনলাইনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখবে।
মেক্সিকো সিটিতে কিছু শ্রমিক সংগঠনের বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঝুঁকিতে নেই।
লস অ্যাঞ্জেলেস ও টরন্টোতেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টরন্টোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পরিবহন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক 























