০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পয়লা মে থেকে ডিম-মুরগির খামার বন্ধের ঘোষণা

  • RA
  • পোষ্টের সময় : ১২:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • ৪২৪ ভিউ :

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ১ মে থেকে দেশের সব প্রান্তিক ডিম ও মুরগি উৎপাদনকারী খামার বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার এ সিদ্ধান্ত জানান।

 

তিনি বলেন, গত দুই মাসে প্রান্তিক খামারিরা প্রায় ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার লোকসানে পড়েছেন। রমজান ও ঈদ মৌসুমেও প্রতিদিন ২০ লাখ কেজি মুরগি উৎপাদন করে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা এবং প্রতিদিন ৩ কোটি ডিম উৎপাদন করে প্রতি ডিমে ২ টাকা লোকসান দিয়েছেন তারা। অথচ সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নীরব ভূমিকা পালন করছে।

 

বিপিএ অভিযোগ করে বলেছে, কর্পোরেট কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পুরো পোল্ট্রি শিল্প দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা শুধু ফিড, বাচ্চা ও ওষুধ নয়—ডিম ও মুরগির বাজারও নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে প্রান্তিক খামারিরা বাধ্য হচ্ছেন ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’-এর দাসত্বে।

 

সংগঠনের দাবি, বাচ্চা মুরগি উৎপাদনে কারচুপি করে কর্পোরেট কোম্পানিগুলো ঈদের আগে ২৮–৩০ টাকায় উৎপাদিত বাচ্চা ৭০–৮০ টাকায় বিক্রি করেছে। বর্তমানে সেই বাচ্চা আবার ৩০–৩৫ টাকায় নামানো হয়েছে। অথচ প্রতি কেজি ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ ১৬০–১৭০ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০–১২৫ টাকায়। ডিমের ক্ষেত্রেও উৎপাদন খরচ ১০–১০.৫০ টাকা হলেও বাজারে দাম ৮–৮.৫০ টাকা।

 

বিপিএ সভাপতি জানান, কর্পোরেট দখলদারিত্ব বন্ধ এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই খামার বন্ধ কর্মসূচি চলবে।

 

বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানান। সেগুলো হচ্ছে —

 

১. পোল্ট্রি পণ্যের জন্য জাতীয় মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও নির্ধারণ কমিটি গঠন করতে হবে।

 

২. কন্ট্রাক্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন করে এটি নিষিদ্ধ করতে হবে।

 

৩. পোল্ট্রি বাজার রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করতে হবে।

 

 

৪. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য সরকারের পুনর্বাসন প্যাকেজ দিতে হবে।

 

৫. খামারিদের রেজিস্ট্রেশন ও আইডি কার্ড দিতে হবে।

 

৬. কোম্পানিকে কেবল কাঁচামাল উৎপাদনে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

 

৭. কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও কোম্পানির খামার নিষিদ্ধ করতে হবে।

 

 

৮. কেজি ভিত্তিক ডিম ও মুরগি বিক্রির নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

 

৯. ডিম-মুরগির রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

১০. এবং পূর্ণাঙ্গ ‘পোল্ট্রি উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করতে হবে।

 

এসব দাবি মানার না হলে কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

পয়লা মে থেকে ডিম-মুরগির খামার বন্ধের ঘোষণা

পোষ্টের সময় : ১২:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ১ মে থেকে দেশের সব প্রান্তিক ডিম ও মুরগি উৎপাদনকারী খামার বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার এ সিদ্ধান্ত জানান।

 

তিনি বলেন, গত দুই মাসে প্রান্তিক খামারিরা প্রায় ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার লোকসানে পড়েছেন। রমজান ও ঈদ মৌসুমেও প্রতিদিন ২০ লাখ কেজি মুরগি উৎপাদন করে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা এবং প্রতিদিন ৩ কোটি ডিম উৎপাদন করে প্রতি ডিমে ২ টাকা লোকসান দিয়েছেন তারা। অথচ সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নীরব ভূমিকা পালন করছে।

 

বিপিএ অভিযোগ করে বলেছে, কর্পোরেট কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পুরো পোল্ট্রি শিল্প দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা শুধু ফিড, বাচ্চা ও ওষুধ নয়—ডিম ও মুরগির বাজারও নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে প্রান্তিক খামারিরা বাধ্য হচ্ছেন ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’-এর দাসত্বে।

 

সংগঠনের দাবি, বাচ্চা মুরগি উৎপাদনে কারচুপি করে কর্পোরেট কোম্পানিগুলো ঈদের আগে ২৮–৩০ টাকায় উৎপাদিত বাচ্চা ৭০–৮০ টাকায় বিক্রি করেছে। বর্তমানে সেই বাচ্চা আবার ৩০–৩৫ টাকায় নামানো হয়েছে। অথচ প্রতি কেজি ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ ১৬০–১৭০ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০–১২৫ টাকায়। ডিমের ক্ষেত্রেও উৎপাদন খরচ ১০–১০.৫০ টাকা হলেও বাজারে দাম ৮–৮.৫০ টাকা।

 

বিপিএ সভাপতি জানান, কর্পোরেট দখলদারিত্ব বন্ধ এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই খামার বন্ধ কর্মসূচি চলবে।

 

বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানান। সেগুলো হচ্ছে —

 

১. পোল্ট্রি পণ্যের জন্য জাতীয় মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও নির্ধারণ কমিটি গঠন করতে হবে।

 

২. কন্ট্রাক্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন করে এটি নিষিদ্ধ করতে হবে।

 

৩. পোল্ট্রি বাজার রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করতে হবে।

 

 

৪. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য সরকারের পুনর্বাসন প্যাকেজ দিতে হবে।

 

৫. খামারিদের রেজিস্ট্রেশন ও আইডি কার্ড দিতে হবে।

 

৬. কোম্পানিকে কেবল কাঁচামাল উৎপাদনে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

 

৭. কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও কোম্পানির খামার নিষিদ্ধ করতে হবে।

 

 

৮. কেজি ভিত্তিক ডিম ও মুরগি বিক্রির নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

 

৯. ডিম-মুরগির রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

১০. এবং পূর্ণাঙ্গ ‘পোল্ট্রি উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করতে হবে।

 

এসব দাবি মানার না হলে কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card