নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মাঝে ওই কিশোরীর কথিত প্রেমিকও রয়েছে। ঘটনার সাত দিন পর বুধবার ভোরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নিজগাবী গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন, ধর্মপাশা উপজেলার নিজগাবী গ্রামের মো. শাহজাহান মেম্বারের ছেলে আজিজুল ইসলাম (১৮), একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মো. রফিক (২৪) এবং প্রয়াত জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সাকিব মিয়া (২৬)। তারা সবাই রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল রাতে ঘটনাটি ঘটলেও মঙ্গলবার তা জানতে পারেন স্বজনরা। পরে রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী (১৭) মোহনগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল রাত প্রায় ১২ টার সময়, মোহনগঞ্জ শহরের আলোকদিয়া ব্রিজ এলাকায় কথিত প্রেমিকের সাথে দেখা করতে যান ওই কিশোরী। এসময় তার কথিত প্রেমিক ধর্মপাশা থানার গাবী গ্রামের শাজাহান মেম্বারের ছেলে আজিজুল ইসলাম( ২০) তার বন্ধু একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে রফিক(২৪) এর সহায়তায় জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয় যায়। পরে প্রেমিক আজিজুল ইসলাম দুই বন্ধু রফিক ও একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে সাকিব মিয়া পালাক্রমে রাতভর তাকে ধর্ষণ করে। ভোর বেলায় ভূক্তভোগিকে মোহনগঞ্জে তার বাড়ির পাশে রাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
পরবর্তীতে ভিকটিমের ভাই বাদি হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় ও জেলা পুলিশের দেয়া তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে, মোহনগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত কর্মকর্তা মো : শফিকুল ইসলাম ও পুলিশ টিমের সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার নিজগাবী গ্রাম থেকে প্রেমিক আজিজুল সহ অভিযুক্ত তিন আসামীকে আটক করা হয়।
থানার ওসি জানান, মঙ্গলবার মামলার হবার পর আসামীদের গ্রেপ্তার তৎপড়তা শুরু করে পুলিশ। পরে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার তাদেরকে নেত্রকোনা কোর্টে প্রেরণ করা হয়।




















