নেত্রকোনার মদনে গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়া পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থাটি অবশেষে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটির কতৃপক্ষ । মঙ্গলবার বিকালে মদন উপজেলায় সিলেট বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পৌর বিএনপি নেতা এনামূল হকের উপস্থিতিতে তার চেম্বারে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ ১৭ দিন পর গ্রাহকের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিচ্ছে খবরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছে আমানতকারী গ্রাহকরা।
আমানত ফেরত পাওয়া গ্রাহক আলমগীর জানান, আজকে তারা আমাকে ২ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। এনজিওটি ১৭ দিন ধরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ ছিল এই টাকা দিয়ে তারা বলতেছে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এবং আমাদের টাকা ফেরত দেবে। ৩৫ জনকে আজকে ২ হাজার করে দিয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক শাহদাত হোসেন বলেন, আমরা ইতি মধ্যে গ্রাহকের আমানতকৃত টাকা ফেরত দিতে শুরু করেছি। মদন শাখার ৩৫ জন গ্রাহককে আবাদত ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। আমাদের শাখাটি যেহেতু বন্ধ, মাঠ থেকে টাকা উত্তোলন করে অচিরেই গ্রাহকের আমানতকৃত টাকা ফেরত দেয়া হবে।
জানা যায়, ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’র বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় গ্রাহক নিতীশ চন্দ্র রায় আটজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন ।এ মামলা দুইজনকে আটকের পর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ দিকে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় মদন উপজেলার অসহায় গ্রাহক গৃহিণীরা নেত্রকোনা সদরের এনজিও অফিসটি ঘেরাও করেছিলেন।
গ্রাহক নিতীশ চন্দ্র রায় অভিযোগে উল্লেখ করে ছিলেন, অধিক মুনাফা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট এবং দৈনিক সঞ্চয় হিসেবে আরও ১০ হাজার ৩০০ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শহরের চকপাড়া এলাকায় অবস্থিত পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার অফিসের মাঠকর্মী তামান্না শেখ ও ম্যানেজার মোঃ আল-আমিন খানের মাধ্যমে এসব টাকা সংগ্রহ করা হয়। একইভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার আরও বহু গ্রাহকের কাছ থেকেও ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট ও দৈনিক সঞ্চয়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল , দীর্ঘদিন ধরে মদন উপজেলাসহ সংস্থাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা সংগ্রহ করে। সম্প্রতি গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করতে গেলে নানা টালবাহানা শুরু হয়। পরে বৃহস্পতিবার ১৩ মে মদন উপজেলার গ্রাহকরা চকপাড়াস্থ অফিসে গিয়ে দরজায় তালা ঝুলতে দেখেন। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার নেত্রকোনা সদর উপজেলার ভুক্তভোগীরা অফিস ঘেরাও করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুরাদ হোসেন, তামান্না আক্তার ও মোঃ আল-আমিন শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তামান্না আক্তার ও মোঃ আল-আমিন শেখকে আদালতে পাঠানো হয়। আটক মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 


















