গত কয়েক দিন ধরে চলছিল সাজসজ্জা, ডেকোরেটর, সামিয়ানা, লাইটিংসহ নানা কাজের ছড়াছড়ি। গ্রাম্য বিদ্যালয়কে নতুন রূপে সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন সতীর্থরা। কারও বয়স ১২, কারও ১৫, কারও আবার বেশি। এরা সবাই একই বিদ্যালয়ের সতীর্থ। কেউ পাস করে চাকরি করছে, কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক, কেউ কৃষক, আবার কেউ মেঠো মজদুর। বিভিন্ন পেশার হলেও এক সময় তারা এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। তারা সবাই মিলে আয়োজন করেছিল নবীন-প্রবীণের মিলনমেলা। বলছিলাম টাঙ্গাইলের মধুপুর রামজীবন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনীর কথা।
বিদ্যালয়টি পিরোজপুর গ্রামের লাল মাটির পাহাড়িয়া এলাকায়। পিছিয়ে পড়া গ্রামকে এগিয়ে নিতে এ গ্রামের এক দম্পতি, বাবু সন্তোষ কুমার ম্রং ও বিরাজিনী সাংমা, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৯৪ সালে। প্রায় ৩০ বছর পর গত ৩১ মে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পুনর্মিলনী। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে নানা আয়োজন। স্মৃতিচারণ ও ফটোসেশন ছিল চোখে পড়ার মতো। গল্প-আড্ডায় মেতে ছিলেন পুরোনো সহপাঠীরা। প্রায় সবাই পরিবার-পরিজন ও সন্তানদের নিয়ে এসেছিলেন। পুরো আয়োজন ছিল বর্ণিল। রাতের লাইটিং ছিল নজরকাড়া। সকালে উদ্বোধন, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান, অতিথি বরণ ও দুপুরের আহারের পর চলে স্মৃতিচারণ পর্ব। পরে সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। বক্তব্য রাখেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম. ওবায়দুল্লাহ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, ধনবাড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম ফজলুল হক, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা মহি উদ্দিন, স্বর্গীয় বাবু সন্তোষ কুমার ম্রংয়ের কন্যা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি তামসী তন্দ্রা ম্রং, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এম. রতন হায়দার, সাবেক প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, মুক্তাগাছা শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের প্রভাষক শামসুর রাহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি নাজমুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব মুক্তাগাছা সরকারি কলেজের প্রভাষক শামসুর রাহমান বলেন, পুরো আয়োজনটি ছিল প্রায় দেড় হাজার সতীর্থের সহযোগিতায়। একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর সবার ব্যস্ততার মধ্যেও একসঙ্গে হতে পেরে তাদের মধ্যে যেন প্রাণ ফিরে এসেছিল। খুব উপভোগ্য ছিল মিলনমেলাটি।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর এ আয়োজন খুব প্রাণবন্ত ছিল। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাসহ অনেকেই মারা গেছেন। তাদের তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, লাল মাটির এ বিদ্যালয়টি সুদীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছে এ এলাকায়।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মিসেস তামসী তন্দ্রা ম্রং বলেন, এমন আয়োজন শিক্ষার্থীসহ পুরোনোদের মনেও একদিনের জন্য হলেও অতীতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সুন্দরভাবে মিলনমেলাটি সম্পন্ন হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রথম পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছে। নবীন-প্রবীণের মিলনমেলাটি ছিল তারুণ্যদীপ্ত।
হাবিবুর রহমান
মধুপুর, টাঙ্গাইল।
হাবিবুর রহমান, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 











