জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর বিএনপির হাইকমান্ড নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ভাবনাচিন্তায় লিপ্ত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এ ছাত্রদলের ফলাফল হতাশাজনক হিসেবে ধরা পড়েছে।
একসময় তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল আজ দারুণ চ্যালেঞ্জের মুখে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছেন, এই ব্যর্থতা জাতীয় রাজনীতিতে কোনো সরাসরি প্রভাব ফেলবে না। তবে ছাত্রদলের ভেতরের সূত্রগুলো দেখাচ্ছে, নেতৃত্বের কোন্দল, অযোগ্যতা এবং বয়সজনিত কারণে তরুণ ভোটারদের মনোভাব বোঝার অক্ষমতা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ছাত্রদলকে অগোছালো ও বিভক্ত করে তুলেছে। বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের প্রতি অভিযোগ উঠেছে যে তিনি নিজস্ব বলয় তৈরি করে দলকে একরকম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছেন। এই ভেতরের দ্বন্দ্ব এবং কমজোরি নেতৃত্বের প্রভাব সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, সাফি ইসলাম, খোরশেদ আলম সোহেল, আরিফুল ইসলাম আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিনুল ইসলাম জিসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। এই নেতা প্রার্থীরা সিনিয়র বিএনপি নেতাদের কাছে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে নতুন কমিটিতে স্থান পেতে চেষ্টারত।
৯০-এর দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, “যোগ্যতা না থাকায় ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হেরেছে। সাধারণ ছাত্ররা তাই ভোট দিচ্ছে না।” ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক যোগ করেন, “এটি আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। আমরা সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে আগামী দিনে শক্তিশালী হব।”
নতুন নেতৃত্ব গঠনের বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ড শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ছাত্রদলের এই পরিবর্তন চরম সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















