প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গঠিত ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি’ বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ছয় সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি ছিলেন অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবও ছিলেন এ কমিটির সদস্য।
এই কমিটির দায়িত্ব ছিল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, যুগ্ম সচিব ও তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া। তবে প্রশাসনের কাঠামোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার নতুন নীতি গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন হলে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গতি আসবে এবং প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, “বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সমন্বিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এই কমিটি বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন নীতিমালার আলোকে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।”
অন্যদিকে, জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। তারা মনে করেন, এটি আমলাতন্ত্রে দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব পুনর্বিন্যাসেরও অংশ হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি আগামী প্রশাসনিক সংস্কারের ভিত্তি রচনা করবে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















