গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন নেতানিয়াহুকে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে জানানো হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানায়, হোয়াইট হাউজের দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী গাজায় শিশু ও সাধারণ মানুষের দুর্দশার চিত্র দেখে ট্রাম্প গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।
পূর্বে গুজব উঠেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে যুদ্ধ বন্ধ না করলে সহযোগিতা বন্ধের হুমকি দিয়েছে। যদিও এই দাবি অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। তবে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, ট্রাম্প চান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক, যেখানে নেতানিয়াহু যুদ্ধ আরও সম্প্রসারণের পক্ষে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি জিম্মিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তার প্রবেশ এবং গাজার পুনর্গঠনের কাজ শুরু দেখতে চান।
সম্প্রতি ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ মধ্যপ্রাচ্য সফর করে নেতানিয়াহু ও হামাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যাক চ্যানেল যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
এদিকে ইসরায়েলি সেনারা গাজার বিপুলসংখ্যক বাসিন্দাকে বাস্তুচ্যুত করে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সরিয়ে নিতে কাজ করছে, যার ফলে গাজার বহু এলাকা ধ্বংসের মুখে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও গাজা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়ায় তার ইসরায়েল সফর স্থগিত করেছেন।
ট্রাম্প গাজায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহুর ওপর সর্বাধিক চাপ দিয়েছেন। খাদ্য সংকটে থাকা শিশুদের করুণ অবস্থা দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানান কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, গাজা যুদ্ধের কারণে তার মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা থমকে আছে, যা দ্রুত সমাধান চান তিনি।
এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়াই হামাসের সঙ্গে আলোচনা করে এক মার্কিন-ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভেত্তি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন—তিনি সব জিম্মির মুক্তি এবং যুদ্ধের অবসান চান।
সূত্র: এক্সিওস নিউজ


























